বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৮

গান্ধিজি ( পাঁচ )


    গান্ধিজি ( পাঁচ )


    ফেসবুক থেকে     শেয়ার করেছেন        প্রণব কুমার কুণ্ডু


কেনো আমি গান্ধীকে ঘৃণা করি ? # (পর্ব- ৩)
(২ অক্টোবর, পাপাত্মা গান্ধীর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে গান্ধীর প্রতি আমার প্রস্রাবাঞ্জলি হিসেবে এই প্রবন্ধটি লিখা।)
এই সিরিজের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বে আমি গান্ধীর নানা কুকর্মের কথা তুলে ধরে তার হিন্দু্বিনাশী চরিত্র সম্পর্কে কিছুটা ধারণা দিয়েছি, এ পর্বেও জানতে পারবেন আরও একটি ন্যাক্কারজনক তথ্য, তাই কথা না বাড়িয়ে শুরু করা যাক-
পাপাত্মা গান্ধীর বড় ছেলের নাম হীরালাল গান্ধী, কয়েকজন মুসলমানের ফাঁদে পড়ে সে একবার ইসলাম গ্রহন করে মুসলমান হয়েছিলো, এই ঘটনা ঘটেছিলো ১৯৩৬ সালে। মুসলমান হয়ে সে নাম নিয়েছিলো আব্দুল্লাহ। এই ঘটনায় মুসলমান সমাজ উল্লাসে ফেটে পড়েছিলো; কারণ, তারা স্বপ্ন দেখেছিলো, ভারতের প্রধান নেতা গান্ধী, আর তার ছেলের হাত ধরেই ভারত আবার ইসলামিক দেশ অর্থাৎ দার-উল-ইসলামে পরিণত হবে। কিন্তু এতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলো হীরালালের ৭ বছর বয়সী মেয়ে মানু গান্ধী, সে ডাইরেক্ট মুসলমান হতে অস্বীকার করে।
এরপর মুসলিম সমাজের নেতা জাকারিয়া, আব্দুল্লাহ ওরফে হীরালালকে বলে, তোমার মেয়ে এখনও মুসলমান হয় নি, সে এখনও আর্য সমাজের প্রার্থনায় যায়, তাকে তাড়াতাড়ি মুসলমান বানাও, না হলে ওর সাথে তোমার কোনো সম্পর্ক রাখা যাবে না। নওমুসলিম আব্দুল্লাহ, তার নাবালিকা মেয়েকে শাসায় মুসলমান হওয়ার জন্য, কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয় না। আসরে নামে জাকারিয়া, সে মানুকে গিয়ে বলে, তুই যদি মুসলমান না হোস, তোকে ন্যাংটো করে কুচি কুচি করে কেটে কাক আর চিলকে দিয়ে খাওয়াবো; তাতেও ভয় পায় না মানু। শেষে জাকারিয়া, আব্দুল্লাহকে বুদ্ধি দেয়, আল্লা, কাফির মেয়েদের ব্যাপারে বলেছেন, যদি তারা ইসলাম গ্রহন না করে, গনিমতে মাল হিসেবে তুমি তাদেরকে তোমরা ভোগ করতে পারো; আর তুমি যদি এটা না করো, ঐ মেয়েকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য আমি নিজেই এটা করবো, যেকোনো মূল্যে হিন্দুস্থানকে ইসলামিক দেশ বানাতে হবে, তোমার ঘরের ঐ জেদী মেয়েকে থেঁতলে দিতে হবে; তবে যে মালি গাছ লাগায়, প্রথম ফল ভোগের অধিকার তারই; এরপর মুসলমান হিসেবে হীরালালে জোশ জেগে উঠে, সে ৮ বছর বয়সী নিজের মেয়েকে ধর্ষণ করে, হীরালালের মুসলমান হওয়ার আগেই তার স্ত্রী মারা গিয়েছিলো, তাই হীরালালের হাত থেকে তার মেয়েকে রক্ষা করার মতো কেউ ছিলো না।
একা বাড়িতে দিনের পর দিন মুসলমান পিতার হাতে ধর্ষিতা হতে হতে কাঁচা হাতে মানু চিঠি লিখে সব ঘটনা জানায় তার দাদু গান্ধীর কাছে। কিন্তু গান্ধীর কাছ থেকে কোনো উত্তর বা সাড়া আসে না। শেষে মানু চিঠি লিখে তার দিদা কস্তুরবার কাছে, ঘটনা জেনে শিউরে উঠে কস্তুরবা, সে গান্ধীকে অনুরোধ করে হীরালালকে পুনরায় হিন্দু সমাজে ফিরিয়ে আনতে; কারণ, কস্তুরবা বুঝতে পেরেছিলো, মুসলমান হওয়ার ফলেই হীরালাল এমন অমানুষে পরিণত হয়েছে। কিন্তু গান্ধী ছিলো শুদ্ধিকরণ অনুষ্ঠানের বিরুদ্ধে, সে চাইতো না কোনো মুসলমান, পুনরায় হিন্দু হয়ে হিন্দু সমাজে ফিরে আসুক। একারণেই সে একবার মুসলিম মলকানে, স্বামী শুদ্ধানন্দ যখন রাজপুতদের শুদ্ধি করে হিন্দুসমাজে ফেরৎ আনছিলেন তখন গান্ধী তা ঠেকাতে তার প্রধান শিষ্যা "বিনোবা ভাবে"কে ওখানে পাঠায়, সে সেখানে গিয়ে গান্ধীর নির্দেশে অনশন শুরু করে এবং শুদ্ধি অুনষ্ঠান বন্ধ করে।
মানু ও হীরালালের জন্য গান্ধী কিছু করবে না বুঝতে পেরে কস্তুরবা একাই চলে যান বম্বের তৎকালীন আর্য্যসমাজে নেতা শ্রীবিজয়শঙ্কর ভট্টর কাছে এবং বলে, তার ছেলেকে আবার সে হিন্দু সমাজে ফেরত চান, কারণ, সে বিধর্মীদের বুদ্ধিতে পড়ে নিজের মেয়ের উপর অত্যাচার করছে।”
সব শুনে বিজয় ভট্ট বলে, “আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন আমরা যথাসম্ভব চেষ্টা করবো।”
এর পর বিজয়শঙ্কর, হরিলালের বাড়ি গিয়ে ইসলামের আসল সত্য এবং বেদের শ্রেষ্ঠত্ব বোঝালেন।সব কথা শুনে হরিলালের অনুশোচনা হল।তখন বিজয়শঙ্কর হরিলালকে দয়ানন্দ সরস্বতী লিখিত সত্যার্থ প্রকাশ পড়তে দিলেন।এর ফলে হরিলাল বম্বেতে খোলাময়দানে হাজার হাজার মানুষের সামনে পুনরায় হিন্দুধর্মে দীক্ষা নিলেন।কস্তুরবা নিজে উপস্থিত রইলেন শুদ্ধিস্থলে এবং হরিলালকে সুস্থজীবনের আশীর্বাদ দিলেন।
কিন্তু গান্ধী, হরিলালের পুনরায় হিন্দুধর্ম গ্রহনে কস্তুরবার ভূমিকায় ক্রুদ্ধ হলো। সে কস্তুরবার উপর মানসিক নির্যাতন চালাতে লাগলো। ১৯৪২ এর ভারতছাড় আন্দোলনের সময় মোহনদাস ও কস্তুরবা পুণার আগা খাঁ প্রাসাদে অন্তরীন ছিলো।এই সময় কস্তুরবা ব্রঙ্কাইটিসে আক্রান্ত হয়।ব্রিটিশ সরকার ইংল্যান্ড থেকে পেনিসিলিয়াম নিয়ে আসে কস্তুরবার চিকিৎসার জন্য।কিন্তু ইনজেকসন প্রয়োগ অহিংসা নীতির বিরোধী এই অজুহাতে গান্ধী কস্তুরবারকে ইনজেকশন প্রয়োগ করতে দেয় নি, ফলে বিনা চিকিৎসায় মারা যায় কস্তুরবা ।
এতদিন মানু, কস্তুরবার কাছেই ছিলো; কিন্তু কস্তুরবা মারা যাওয়ায় মানু গিয়ে পড়ে গান্ধীর হাতে, যে গান্ধী তথন অলরেডি নগ্ন হয়ে যুবতী মেয়েদের সাথে বিছানায় শুয়ে ব্রহ্মচর্যের পরীক্ষা নিরীক্ষা শুরু করে দিয়েছিলো। গান্ধী যখন মানুকে হাতে পায়, তখন মানু অলরেডি ১৪/১৫ বছরের যুবতী, তাকে শয্যাসঙ্গিনী হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে বলেই হয়তো গান্ধী, মানুর প্রতি কিছুটা সহমর্মিতা দেখিয়েছিলো এবং মানুর কাছে তার পিতার যাবতীয় কাহিনী এবং হীরালালের অতিরিক্ত মদ্যাপানরে ঘটনা শুনেই বোধহয়, গান্ধী, তার অপদার্থ ছেলে হীরালালের কাছ একটি চিঠিতি লিখেছিলো,
"তোমার বোঝা উচিত যে তোমার সমস্যা আমার জন্য আমাদের দেশের স্বাধীনতা অর্জনের আন্দোলনের চেয়ে বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে। মানু তোমার ব্যাপারে ভয়াবহ কিছু বিষয় আমাকে জানিয়েছে। সে আমাকে জানিয়েছে আট বছর আগে তুমি তাকে ধর্ষণ করেছ। যার ফলে সে এতটাই জখম হয় যে তাকে চিকিৎসা নিতে হয়। আর একটি চিঠিতে গান্ধী লিখেছে, তুমি এখনো মদ এবং ব্যভিচারে আগ্রহী কি না, সেই সত্যিটা আমায় বলো। মদ খাওয়ার চেয়ে তোমার মরণ হোক, এটাই আমি চাই।"
এই মানু, গান্ধীর জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তার সাথে ছিলো, গান্ধী যেখানেই যেতো মানু ও তার আরেক নাতনী কানুকে সঙ্গে নিয়ে যেতো এবং তাদেরকে শয্যাসঙ্গিনী হিসেবে ব্যবহার করতো, ফটো হিসেবে এই পোস্টের সাথে যে ছবিটি যুক্ত করেছি, সেই ছবিতে গান্ধীর সাথে যে দুজনকে দেখতে পাচ্ছেন, এরাই সে মানু ও কানু গান্ধী। এ সম্পর্কিত আরো কিছু তথ্য আপনারা আমার গান্ধী সম্পর্কিত আগের পোস্টগুলোতে জেনেছেন।বছরের পর বছর ধরে অত্যাচারিতা মনু একসময় তীব্র ধিক্কার জানিয়ে গান্ধীকে বলেছিলো, “ তুমি আমাকে শেষ করে দিয়েছো ।”
এই মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীকেই অনেক ভারতীয় হিন্দু মনে করে জাতীর জনক এবং তাকেই মনে করে তাদের আদর্শ, হিন্দুদের দুর্ভাগ্য, দুর্দশা আর পতন কি এমনি এমনি ?
জয় হিন্দ।
💜 জয় হোক সনাতনের 💜


লাইকআরও প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করুন
মন্তব্য
মন্তব্যগুলি

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন