মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

পশ্চিমবঙ্গের মাতৃভাষা

 

 
২০ই সেপ্টেম্বর - পশ্চিমবঙ্গ মাতৃভাষা দিবস উদযাপনঃ
 
শুধুমাত্র ভাষার পরিপ্রেক্ষিতে একটি জাতি গড়ে উঠতে পারে কি? হয়তো না। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, ভাষা এবং ভূখণ্ডের সামগ্রিক মেলবন্ধনের পরিপ্রেক্ষিতে একটি জাতি গঠিত হয় যেখানে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের পরিসর ব্যাপক। প্রায় হাজার খ্রিস্টাব্দের পূর্বে সৃষ্টি হওয়া প্রাচীন বাংলা লিপি, কালের নিয়মে অনেক রদবদলের মধ্য দিয়ে এসেছে। সৃষ্টি হয়েছে নিজস্ব বর্ণমালা। সনাতনী ভারতীয় সংস্কৃতির মধ্যে জন্ম ও বিকশিত হওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই বাংলা ভাষায় হিন্দু ধর্মের প্রাধান্য লক্ষণীয়। এই একই কারণে শুষ্ক মরু-সংস্কৃতিতে জন্ম ও বেড়ে ওঠা ইসলাম, বাংলা ভাষায় ততটা ঢুকতে পারেনি। বাংলা ভাষার প্রকৃত উৎস সংস্কৃত ভাষা হওয়ার কারণে সেখানে তৎসম শব্দের প্রভাব অত্যন্ত বেশি। যদিও কালের নিয়মে তদ্ভব এবং অসংখ্য বিদেশি শব্দের প্রবেশ ঘটেছে। কিন্তু সেগুলি সাবলীলভাবেই বাংলা ভাষায় আত্তীকৃত হয়েছে; কখনোই তা বলপূর্বক হয়নি। দুর্ভাগ্য যে এই একবিংশ শতাব্দীতে এসেও আমাদের অসহনীয় ভাষা জিহাদের সম্মুখীন হতে বাধ্য করা হচ্ছে শুধুমাত্র নির্লজ্জ সস্তা রাজনীতির কারণে। নিজ ঋদ্ধ ঐতিহ্যমন্ডিত শব্দগুলিকে বলপূর্বক পরিবর্তিত করে সেখানে বিজাতীয় শব্দ প্রবেশ করানো হচ্ছে। হাজার হাজার মানুষের জীবনের বিনিময়ে আরব সাম্রাজ্যবাদের করাল গ্রাস থেকে ছিনিয়ে এনে বাঙালি হিন্দুদের স্বাধীন ভাবে শ্বাস নিয়ে বেঁচে থাকার শেষ আশ্রয়স্থল এই পশ্চিমবঙ্গে, সরকারি মদতে শুরু হয়েছে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও ভাষা জিহাদ। সস্তা রাজনৈতিক স্বার্থ ও নির্লজ্জ ভোট তৃষ্ণা মেটানোর তাগিদে নিজেদের হিন্দু শিকড় কে অস্বীকার করে এক পৃথক আইডেন্টিটি প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে ক্রমাগত বলপূর্বক বিজাতীয় আরবি-ফারসি শব্দের অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে বাংলা ভাষাকে হিন্দুত্ব বর্জিত করে তার ইসলামীকরণের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কবিগুরুর ভাষায় বলতে হয়, "আজকের বাংলা ভাষা যদি বাঙালি মুসলমানদের ভাব সুস্পষ্টভাবে ও সহজ ভাবে প্রকাশ করতে অক্ষম হয়, তবে তারা বাংলা পরিত্যাগ করে উর্দু গ্রহণ করতে পারেন। সেটা বাঙালি জাতির পক্ষে যতই দুঃখকর হোক না, বাংলা ভাষার মূল স্বরূপকে দুর্ব্যবহারের দ্বারা নিপীড়িত করলে সেটা আরো বেশি শোচনীয় হবে। বাংলা ভাষায় সহজেই হাজার হাজার আরবি শব্দ চলে গেছে। তার মধ্যে আড়াআড়ি বা কৃত্রিম জেদের লক্ষণ নেই। কিন্তু যে সব ফারসি আরবি শব্দ সাধারণ্যে অপ্রচলিত অথবা হয়তো কোন এক শ্রেণীর মধ্যে বদ্ধ তাকে বাংলা ভাষার মধ্যে প্রক্ষেপ করাকে জবরদস্তি বলতেই হবে। হত্যা অর্থে খুন ব্যবহার করলে বেখাপ হয়না; বাংলার সর্বজনের ভাষায় সেটা বেমালুম চলে গেছে। কিন্তু রক্ত অর্থে খুন চলে নি, তা নিয়ে তর্ক করা নিষ্ফল।" আজকের বর্তমান পশ্চিমবঙ্গে এই ভাষা জিহাদের অশুভ প্রচেষ্টা উৎকট ভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে। বাংলায় আরব সাম্রাজ্যবাদী ও তাদের রাজনৈতিক মদতদাতারা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সম্পূর্ণরূপে বাদ দিয়ে শুধুমাত্র ভাষাভিত্তিক বাঙালি জাতি তত্ত্ব কে সামনে রেখে এবং মুখে জয়বাংলা স্লোগান তুলে সুকৌশলে বৃহৎ বাংলাদেশ গড়ার ষড়যন্ত্রকে সফলতার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এই প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মৌলানা ভাসানীর সেই কুখ্যাত উক্তিটি স্মরণীয়..... 'আসাম আমার, পশ্চিমবঙ্গ আমার, ত্রিপুরাও আমার। এগুলো ভারতের কবল থেকে ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মানচিত্র পূর্ণতা পাবে না।'
এই আক্ষেপ থেকে সৃষ্টি হওয়া ষড়যন্ত্রের অঙ্গরূপে আমরা দেখতে পাই বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে স্কুল পাঠ্য থেকে আকাশী শব্দটি মুছে দেওয়া হয়েছে পরিবর্তে এসেছে আসমানী। রামধনুর পরিবর্তে এসেছে রংধনু। কিন্তু এই তোষণ মুলক রাজনীতির কারণে সাধারণ বাঙালিকে কেন ঐতিহ্যচ্যূত হতে হবে? কেনই বা বলপূর্বক বাংলার পরিবর্তে উর্দু শিখতে হবে?
উত্তর দিনাজপুর জেলার ইসলামপুর মহকুমার দাড়িভিট গ্রামের হাইস্কুলে বাংলা ভাষা ও বিজ্ঞানের শিক্ষক নিয়োগের দাবি ছিল ছাত্র-ছাত্রীদের। অদ্ভুতভাবে স্কুল শিক্ষা দপ্তর পাঠালো উর্দু ও সংস্কৃতের শিক্ষক। অবাঞ্ছিতভাবে উর্দু শিক্ষকের নিয়োগ কে একটু সহনশীল করার খাতিরে হয়তো সুচতুরভাবে সংস্কৃত শিক্ষক নিয়োগের প্রচেষ্টা, অথচ স্কুলটিতে অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রীই বাঙালি হিন্দু, একই সাথে ১০ শতাংশেরও কম মুসলিম পড়ুয়া এবং তাদেরও সবাই বাংলাভাষী। স্কুলটিতে উর্দুভাষী ছাত্র একজনও ছিলনা। স্বভাবতই এই অনাকাঙ্ক্ষিত এবং অযাচিতভাবে চাপিয়ে দেওয়া উর্দু-শিক্ষা ছাত্র-ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকরা মেনে নিতে পারেননি। শুরু হয় গণতান্ত্রিক আন্দোলন। বাংলা ভাষাকে অবদমিত করে বিজাতীয় উর্দু ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অপচেষ্টাকারী আরব সাম্রাজ্যবাদের দালাল রা তাদের মিনি পাকিস্তান তৈরির প্রাথমিক ষড়যন্ত্রে গণতান্ত্রিকভাবে বাধা পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে ওঠে।
চক্রান্তকারীরা প্রমাদ গুনলো, তার ফলস্বরূপ ২০১৮’র ২০ই সেপ্টেম্বর প্রায় বিনা প্ররোচনায় পুলিশ গুলি চালালো। বাংলা ভাষার শিক্ষক চেয়ে এই পশ্চিমবাংলায় প্রাণ হারালেন রাজেশ সরকার ও তাপস বর্মন। পশ্চিমবঙ্গবাসী অবাক বিস্ময়ে দেখল, একটি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী ও গ্রামবাসীদের সম্পূর্ণ নিরস্ত্র গণতান্ত্রিক আন্দোলনের উপর পৈশাচিক রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। কিন্তু দাড়িভিট স্কুলে কি এমন হল যে পুলিশকে গুলি চালাতে হ'ল? দাড়িভিট আন্দোলনে আন্দোলনকারীদের তরফ থেকে কোনো বোমা পড়েনি, পুলিশের গাড়িও পুড়িয়ে দেওয়া বা জলে ফেলে দেওয়া হয়নি, তবুও রাষ্ট্রযন্ত্র গুলি চালালো! অথচ আমরা দেখেছি, ২০১৭ সালের ১৭ই জানুয়ারি মুসলিম অধ্যুষিত ভাঙ্গড়ের পাওয়ার গ্রিড নির্মাণ নিয়ে বিরোধিতায় সেখানকার মানুষ পথ অবরোধ করে। পুলিশ প্রশাসন তা সরাতে গেলে তাদের উপর আক্রমণ নেমে আসে। দশটি পুলিশভ্যান পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়, কিছু আগুন ধরিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। অনেক পুলিশ কর্মী আহত হন, অনেকে তাদের উর্দি খুলে প্রাণ রক্ষার্থে পালান। তবুও কিন্তু পুলিশ ভাঙ্গরে গুলি চালায় নি। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে ছাত্রদের উর্দুর পরিবর্তে বাংলা পড়তে চেয়ে সমবেত হয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে এত ভয় কেন? বিনা প্ররোচনায় এতটা অসহিষ্ণুতা কেন?
বলপূর্বক উর্দু আগ্রাসনের মাধ্যমে মিনি-পাকিস্তান বানানোর ষড়যন্ত্র বাধাপ্রাপ্ত হওয়ায় কি এই অসহিষ্ণুতার প্রকৃত কারণ? রাজেশ তাপসের এই পৈশাচিক হত্যা কিন্তু নিছক ছাত্র হত্যা বা আর পাঁচটা রাজনৈতিক হত্যার সমগোত্রীয় নয়। বৃহৎ বাংলাদেশ গড়তে চাওয়ার কারিগরদের এ এক সুনিপুণ চক্রান্ত; বাঙালি হিন্দু কে তার নিজ ভূমে পরবাসী করার ষড়যন্ত্রের অঙ্গ। সনাতনী ঐতিহ্য স্বরূপ শিকড় টি কে জাতির জীবন থেকে ছিন্ন করার এই অপপ্রয়াস আজ পশ্চিমবঙ্গে সর্বত্র বিরাজমান। ভোট ব্যাংকের জন্য শাসকের নির্লজ্জ তোষণের ফল ভুগতে হচ্ছে রাজ্যের আপামর বাঙালি ঐতিহ্য ও বাংলাভাষা প্রেমী নাগরিকদের। সীমাহীন জিহাদি তোষণ ও নিজ সুপ্রাচীন সনাতনী ঋদ্ধ ঐতিহ্যের প্রতি বিশ্বাস ঘাতকতায় অনন্য এই প্রতিকূল পরিবেশে শুধুমাত্র বাংলা ভাষার দাবীতে উত্তর দিনাজপুরের একটি প্রত্যন্ত গ্রামের দুই কিশোরের আত্মবলিদান বিদ্রোহের স্ফুলিঙ্গ স্বরূপ। মৃত্যুঞ্জয়ী হয়ে উঠুক এই আত্মবলিদান। দাড়িভিট আন্দোলন বাংলা ভাষা ও সনাতনী বাঙালি ঐতিহ্যকে সকলের সামনে নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। দাড়িভিটে ভাষা আন্দোলনের স্মারক নির্মাণের মাধ্যমে প্রতিবাদের আওয়াজ দৃঢ়ভাবে প্রজ্জ্বলিত হউক। ২০ই সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গ মাতৃভাষা দিবস পালনের মধ্য দিয়ে রাজ্যজুড়ে মাদ্রাসায় আরবি শিক্ষা বন্ধের সময়োপযোগী দাবী উঠুক কারণ বুকে মরু-সংস্কৃতি ধারণ করে আর যাই হোক বাঙালি হওয়া যায় না। বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অঙ্গ হিসেবে বয়ে চলা এই ভাষা জিহাদ পরাভূত হউক, আমাদের গর্ব বাংলা ভাষা শুদ্ধ হউক।
 




  • শেয়ার করেছেন : - প্রণব কুমার কুণ্ডু

  •  

     

     

     

    প্রণব কুমার কুণ্ডু

     

    আচ্ছা বলতে পারেন, পশ্চিমবঙ্গের মাতৃভাষাটা, এই তৃণমূলের আমলে, কি ? উর্দু ? না অন্য কোন ইসলামী ?

    Some Stories, Some Science | Dr Raj Vedam | Ancient India | Astronomy | ...


    Some Stories, Some Science | Dr Raj Vedam | Ancient India | Astronomy | ...

    বিষ্ণুধ্বজ হয়ে গেল কুতুবমিনার

    বিষ্ণুধ্বজ হয়ে গেল কুতুবমিনার 

     

     

     
     
     
     বিষ্ণুধ্বজ হয়ে গেল কুতুবমিনার (একটি মিথ্যা ইতিহাসের দ্বারা)
     
    দিল্লীর যে এলাকায় কুতুব মিনার অবস্থিত সেই জায়গাটির নাম মেহেরৌলি। 
    'মেহেরৌলি' শব্দটি এসেছে 'মিহিরওয়ালি' থেকে। মিহির হলেন সম্রাট বিক্রমাদিত্যের (৩৮০-৪১৩ খৃঃ) রাজসভার নবরত্নের এক রত্ন। বরাহমিহির ছিলেন জ্যোর্তিবিদ। মিহিরওয়ালি বলতে বোঝায় বরাহমিহিরের শিষ্য বা অনুগামীগণ।
    আজ যেখানে কুতুব মিনার দাঁড়িয়ে আছে, ভালো করে লক্ষ্য করলে দেখা যায় তার চারপাশে অনেক বিধ্বস্ত দালানকোঠা রয়েছে। পুরো অঞ্চলটা এককালে জ্যোর্তিবিদ চর্চার গবেষণার কেন্দ্র ছিল এবং বরাহমিহিরের অনুগামীরা সেখানে পঠনপাঠন এবং গবেষণা করত এবং কুতুব মিনার ছিল পর্যবেক্ষণ স্তম্ভ বা Observation Tower।
    সুলতান হয়ে দিল্লীতে পা দিয়েই কুতুবউদ্দীন মন্দিরগুলি ধ্বংস করে। নিয়মমাফিক ভাঙ্গা মন্দিরের মাল মশলা দিয়ে কাছেই 'কুতুব-উল-ইসলাম' মসজিদ তৈরী করে, এই মসজিদের গায়ে কুতুবউদ্দীনের যে শিলালিপি আছে, তাতে এইসব ঘটনার কথা লেখা আছে। [The History and Culture of Indian People, R.C. Mazumdar]
    John Marshall এবং আমাদের ধর্ম নিরপেক্ষ ঐতিহাসিকদের মতে, নামাজের আগে আজান দেওয়ার জন্যই কুতুবউদ্দীন এই মিনার তৈরী করেন। এই বক্তব্যের কোনও সঙ্গতি নেই, কারণ-
    ১) মসজিদ থেকে মিনারের যে দূরত্ব, আজান দেওয়ার জন্য এতদূরে কোনও মিনার কেউ তৈরী করেন না।
    ২) কুতুব মসজিদ বানিয়ে ছিলেন কিন্তু মিনার শেষ করতে পারেননি। অতএব আজানের জন্য মিনার এই যুক্তি টেকে না।
    ৩) মসজিদের থেকে মিনার অনেক মূল্যবান এবং আকর্ষণীয় হয় না। কুতুব-উল-ইসলাম মসজিদের চেয়ে কুতুব মিনার অনেক বেশী আকর্ষণীয় ও মূল্যবান।
    আরও আশ্চর্যের বিষয় হল- কুতুব উদ্দীনের এত বড় কীর্তির কথা তার সমসাময়িক ঐতিহাসিক হাসান নিজামীর লেখা তাজ-উল-মাসির এবং মিনহাস-উস-সিরাজের লেখা তাবাকৎ-ই-নাসিরিতে কোনও উল্লেখ নেই। কুতুব উদ্দীনের নামের সঙ্গে এই মিনার জুড়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে, কুতুব উদ্দীনের মারা যাওয়ার ২০০ বছর পরে। শাসম-ই-সিরাজ নামক এক মুসলিম লিপিকার এই কাণ্ডটি ঘটান। (Islamic havoc in Indian History, P. N. Oak, A. Ghosh 5740 W. Little York, Houston Texas, U. S. A. Page-120)
    পন্ডিত কেদারনাথ প্রভাকর দ্বারা সম্পাদিত 'বরাহ মিহির স্মৃতিগ্রন্থ' নামক বইতে কুতুব মিনারের প্রকৃত পরিচয় এবং আরও অনেক তথ্য আছে। এই বইয়ের ১৫৭ নং পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে যে সম্রাট দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত বিক্রমাদিত্য (৩৮০-৪১৩ খৃঃ) খৃষ্টীয় চতুর্থ শতাব্দীতে এই স্তম্ভের নির্মাণ করেন। সম্রাট বিক্রমাদিত্য নির্মিত যে লৌহস্তম্ভটি কুতুব মিনারের পাশে আছে, তার গায়ে সংস্কৃত ও ব্রাক্ষ্মী অক্ষরে লেখা একটি লিপি আছে। ঐ লিপিতে কুতুব মিনারকে বলা হয়েছে '#প্রপাংশু_বিষ্ণুধ্বজ'।
    এরকম ভারতীয় ইতিহাসকে ইসলামী করণের অজস্র প্রমাণ বর্তমান।
    ১৫০ বছর ধরে ভুল ইতিহাস পডানো হচ্ছে-
    অমলেশ মিশ্র।
    শেয়ার করেছেন : - প্রণব কুমার কুণ্ডু




    প্রণব কুমার কুণ্ডু

    Milarepa: The Great Tibetan Tantric & His Enlightenment – Sadhguru


    Milarepa: The Great Tibetan Tantric & His Enlightenment – Sadhguru

    রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

    Metronidazole 400mg এর ট্যাবলেটের দাম

      Metronidazole 400mg এর ট্যাবলেটের দাম

     

     

     

    করোনা ভাইরাস সংক্রমণের সুযোগে, Metronidazole 400mg এর দাম ( 15টা ট্যাবলেটের দাম ) Rs 13.94 থেকে বেড়ে Rs 21.oo টাকা হয়ে গেল ! % এ কত বাড়ল একবার হিসাব করে দেখুন !

    ওষুধে Cost Auditing হওয়া উচিত !

    প্রণব কুমার কুণ্ডু






    প্রণব কুমার কুণ্ডু


    শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০

    আনন্দবাজারের রবিবাসরীয় তে শামিম আহমেদ শ্রীকৃষ্ণকে নিয়ে লিখেছেন

     আনন্দবাজারের রবিবাসরীয় তে শামিম আহমেদ শ্রীকৃষ্ণকে নিয়ে লিখেছেন

     

     
    সবার সাথে একসাথে শেয়ার করা হয়েছে
    সবাই
    Arkajit Dasgupta
     
    আনন্দবাজারের রবিবাসরীয় তে শামিম আহমেদ শ্রীকৃষ্ণকে নিয়ে লিখেছেন। খুব অবাক হলাম লেখাটা পড়ে। যদি আমি শামিম সাহেবের নামের সঙ্গে সুপরিচিত না হতাম তো হয়তো বলে বসতাম যে জন্মাষ্টমীর প্রাক্কালে শ্রীকৃষ্ণকে বদনাম করার কু-উদ্দেশ্যে এটা লেখা, কিন্তু শামিম সাহেবের জ্ঞান নিয়ে আমার সন্দেহ নেই। সেই কারণেই আরো অবাক হচ্ছি এত ভুলে এবং বিকৃত তথ্যে ভরা একটা লেখা উনি পরিবেশন করলেন। আর সেটা পত্রিকায় স্থানও পেয়ে গেল।
    যাই হোক, শামীম সাহেব অনেক বড় পণ্ডিত। আমার মত সীমিত সাধারণ পাঠকের চোখে যে ভুল গুলো পড়ল সেগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করছি।
     
    ১। প্রথম ভুল। জরাসন্ধ। কংসের জামাই নয়, শ্বশুর। অস্তি আর প্রাপ্তি, জরাসন্ধের বৌ নয়, মেয়ে। কংসের বৌ।
     
    ২। দ্বিতীয় ভুল, একনায়ক হতে গিয়ে প্রতিবাদীদের ছল করে হত্যা করা। কৃষ্ণ কোনকালেই একনায়ক হবার চেষ্টা করেননি। যাদব বংশে একনায়কতা বলে কিছু হত না। যাদবরা রাজাদের মধ্যে democracy follow করত। কংসের বাবা উগ্রসেন তাদের প্রধান নেতা ছিলেন কিন্তু decision হত আলোচনার ভিত্তিতে। সেখানে অনেক রাজা/ অধিপতি থাকতেন। যেমন বৃষ্ণিরাজ সুরসেন, রাজকুমার বসুদেব, রাজা কুন্তীভোজ। কংস উগ্রসেন কে বন্দী করে সেখানে একনায়কতন্ত্র চালু করেন। তাই কংস কে হত্যা করা জরুরী ছিল,  যদুবংশের সব রাজা কে স্বাধীন করার জন্য। আর কংসের এত সামর্থ্য ছিল না যে তিনি উগ্রসেন কে বন্দী করবেন। সেই সৈন্যবল জুগিয়েছিলেন স্বয়ং জরাসন্ধ। এখানে উল্লেখ্য কংস উগ্রসেনের আপন সন্তান ছিলেন না। উগ্রসেনের অপরূপা সুন্দরী স্ত্রীকে দেখে মোহিত হয়ে এক দৈত্য উগ্রসেনের বেশে তাঁকে ছলনা করে। তার ফল কংসের জন্ম। সত্যি জানতে পেরে উগ্রসেন-পত্নী দৈত্যকে অভিশাপ দেন যে কোন যাদব কূলজাতের হাতেই তার সন্তানের মৃত্যু হবে। কৃষ্ণ কেবল সেই অভিশাপের মর্যাদা রক্ষাকারী।
     
    ৩। তৃতীয় ভুল। "উপবাসক্লিষ্ট" জরাসন্ধকে গুপ্ত উপায়ে হত্যা করলেন, তাও গুপ্তপথে যজ্ঞগৃহে প্রবেশ করে। ভুল নয়। সর্বৈব মিথ্যা। পড়ে মনে হল লেখক মধুসূদনের মেঘনাদবধকাব্য আর মহাভারত গুলিয়ে ফেলেছেন। জরাসন্ধ কে সরাসরি সর্বসমক্ষে মল্লযুদ্ধে আহবান করা হয়েছিল। কারণ জরাসন্ধ বরপ্রদত্ত ছিলেন যে কোন অস্ত্রে তাঁকে মারা যাবে না। এবং জরাসন্ধ কোন যে সে মল্লযোদ্ধা ছিলেন না। গোটা ভুভারতে তাঁকে মল্লযুদ্ধে হারাতে পারে এরম একজনই ছিল, সেটা ভীম। এবং ভীম কে বিপক্ষ হিসেবে স্বয়ং জরাসন্ধই বেছেছিলেন। কৃষ্ণ choice দিয়েছিলেন- তিনি নিজে, ভীম বা অর্জুনের মধ্যে যে কেউ। কিন্তু জরাসন্ধ কৃষ্ণ বা অর্জুনের মত "দুর্বল" দের সঙ্গে লড়া টা নিজের অপমান মনে করেছিলেন। আর জরাসন্ধ জানতেন যে তিনি মধ্যম পাণ্ডবের সঙ্গে লড়ছেন। কারণ যুদ্ধের আগেই তাঁকে তিন যোদ্ধা নিজের পরিচয় দিয়েছিলেন। যাই হোক, যুদ্ধের সময় জরাসন্ধ মোটেই উপবাসক্লিষ্ট ছিলেন না।
    জরাসন্ধ-ভীমের মল্লযুদ্ধ হয়েছিল অনেক দিন ধরে। কোথাও বলা ২৭ দিন, কোথাও বলা ১৪ দিন। প্রথমদিকে কেউ কাউকে হারাতে পারে নি। শেষ দিকে জরাসন্ধ ক্লান্ত হয়ে পড়েন। উপবাসের সঙ্গে কোন সম্পর্ক নেই।
     
    ৪। চতুর্থ ভুল। আচ্ছা এবার হল জরাসন্ধ প্রজাহিতৈষী আর সমৃদ্ধশালী। তা ছিলেন। প্রচুর দান করতেন গরীবদের। তবে রাজাহিতৈষী মোটেই ছিলেন না। ৯৫ জন রাজাকে বন্দী করেছিলেন। আর পাঁচজন কে বন্দী করে মা চন্ডীর কাছে শত রাজার বলি দিয়ে অমরত্ব পাওয়ার চক্করে ছিলেন। সেটার মধ্যে একটা নাম হতে পারত যুধিষ্ঠিরের। কারণ জরাসন্ধ ইন্দ্রপ্রস্থ আক্রমণ করলে পাণ্ডবরা নিশ্চিত হারত সৈন্যবলে। সেটা আটকাতে হলে এবং ওই ৯৫ রাজা কে বাঁচাতে হলে জরাসন্ধকে মার্কেট থেকে সরাতেই হত। এতে অন্যায় কিছু দেখি না।
     
    ৫। পঞ্চম ভুল। শিশুপাল। পাতি ছিঁচকাঁদুনে পণ করছিলেন রুক্মিণী হাতছাড়া হওয়ায়। কৃষ্ণ রাজা না হলেও দ্বারকার junior crowned prince. স্বয়ং জরাসন্ধ, যাকে সম্মুখ সমরে হারানোর ক্ষমতা কুরু-পাণ্ডব রাষ্ট্রেরও ছিল না, তাঁকে ১৭ বার সম্মুখ সমরে জিততে দেন নি। অশ্বত্থামার ই মত সর্বশাস্ত্রে পণ্ডিত ছিলেন। তাঁর নিজের হাতে প্রশিক্ষিত নারায়ণী সেনা অপরাজেয় এবং গোটা ভারতের সবচেয়ে ভয়ংকর সেনা ছিল। এবং কৃষ্ণ নিজে যুদ্ধক্ষেত্রে সেই নারায়ণী সেনার চেয়েও ভয়ংকর ছিলেন। অনেকে (যারা মহাভারত টা মন দিয়ে পড়েন না) তাঁরা মনে করেন সে যুগের শ্রেষ্ঠ গদাযোদ্ধা ভীম বা দুর্যোধন। একেবারেই নয়। সে কালের শ্রেষ্ঠ গদাযোদ্ধা ছিলেন বলরাম আর কৃষ্ণ। তবে যুদ্ধক্ষেত্রে বলরাম গদার চেয়ে হাল ঘোরানো বেশী পছন্দ করতেন বলে শিরোপা টা কৃষ্ণকে দেওয়াই যায়। ওনার কৌমুদীর সামনে কেউ কোনদিন টিকেছে বলে শোনা যায় না। কৌমুদীর কপাল খারাপ, তাই সুদর্শনের সহনায়ক হিসেবেই থেকে যেতে হল। এছাড়া পাণ্ডব হিতৈষী হিসেবে শ্রীকৃষ্ণের চেয়ে বড় কে ছিল? তাই পুরুষোত্তম হিসেবে ওনার পুজো হয়েছিল। আর শিশুপালের সাহস হত না ওনাকে গালমন্দ করার যদি না কৃষ্ণ শিশুপালের মা কে শত অপরাধ ক্ষমা করার বর দিয়ে ফেলতেন। এবার তিনি যে এতটাই চালু যে সেই গালাগালি গুলোকে এক দুই করে ১০০ গুনবেন সে আর কে বুঝবে।
     
    ৬। ষষ্ঠ ভুল। জরাসন্ধের অনুগত হংস আর ডিম্বককে কৃষ্ণ হত্যা করেন নি। ১৭ বার মথুরা আক্রমণ করতে এসে বলরামের হাতে উত্তম মধ্যম খেয়ে হংসের পঞ্চত্বপ্রাপ্তি ঘটেছিল। সেই শোকে তার ভাই ডিম্বক নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
     
    ৭। সপ্তম ভুল। ছলনার আশ্রয়ে দুর্যোধনের হত্যা। প্রথম ছলটা কে করেছিল? গান্ধারী যদি ছলনা না করতেন, ঠিকঠাক নিয়মে গদাযুদ্ধ হত,  দুর্যোধনের ক্ষমতা ছিল ভীমের সামনে দাঁড়াবার? ভীম অনেক পরের কথা, আমাদের যে মহাভারত সিরিয়াল দেখানো হয় তাতে অর্জুনের ওপর ফোকাস করতে গিয়ে যুধিষ্ঠিরকে ভাঁড় হিসেবে দেখানো হয়। ভদ্রলোক আদতে (মানে লিখিত মহাভারতে) আদৌ তা ছিলেন না। "যুধিষ্ঠির" নাম টা তাঁর মুখ দেখে হয় নি। তিনি প্রকৃতই যুদ্ধে স্থির ছিলেন। কথিত আছে যুধিষ্ঠিরের হস্তনিক্ষিপ্ত বর্শা পর্বত ভেদ করার ক্ষমতা রাখত। আর তিনি একবার সেই বর্শা হাতে যুদ্ধক্ষেত্রে দাঁড়ালে তাঁকে একচুল নড়ানোর ক্ষমতা খুব কম যোদ্ধারই ছিল। গুরুগৃহ থেকে ফেরার পর যখন কুরু-পাণ্ডবের শক্তি পরীক্ষা হয়েছিল, তখন দুর্যোধন যুধিষ্ঠির, ভীম, অর্জুন কাউকেই সরাসরি পরাজিত করতে পারেন নি। আর গান্ধারী এসব জানতেন বলেই দুর্যোধনের শরীরের উর্ধবাংশ অভেদ্য করে ছেলের প্রাণ বাঁচাতে চেয়েছিলেন। আর তা ছাড়া কুরুক্ষেত্রে ছলনা তো অনেক আগেই হয়েছে। রাজকুমারী শিখণ্ডিনী কে যুদ্ধক্ষেত্রে ঢুকতে দেওয়া হয় নি। যুদ্ধের নিয়ম ভেঙে রাত্রে যুদ্ধঘোষণা করেছিল কৌরবরা। অভিমন্যু কে খুন করা হয়েছিল ছল করে। পাণ্ডব পক্ষ তো অনেক পরে ছলনার পথে গিয়েছিল।
     
    আপাততঃ এখানেই শেষ করলাম, আর কত লিখবো? কোন সহৃদয় ব্যাক্তি একটু শামিম সাহেব কে বলবেন মহাভারতটা আরেক বার তাক থেকে নামিয়ে পড়তে। আর আমাদের প্রতিটা অনুষ্ঠানের দিনই এভাবে পরিকল্পিত ভাবে শ্রীকৃষ্ণের কুৎসা না করলেই নয়? কাউকে তো মাথার দিব্যি দেওয়া হয় নি যে তাকে কৃষ্ণকে মানতে হবে। কিন্তু প্রতিবার বিভিন্ন রূপে একই নোংরামিটা খুব জরুরী কি? আমাদের একটু শান্তিতে থাকতে দেওয়া যায় না?


     
     
     
     
     
     
    প্রণব কুমার কুণ্ডু