শুক্রবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১৮

বৃহস্পতিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০১৮

রূপম সরকারের কালম


    রূপম সরকারের কলাম

     ফেসবুক থেকে        শেয়ার করেছেন           প্রণব কুমার কুণ্ডু


১।*******************************************************************************************************
২।পশ্চিমবাংলার সমস্ত স্কুল কলেজ থেকে রামায়ন মহাভারত গীতাপাঠ ও হিন্দুধর্ম বিষয়ের সকল পাঠ আইন করে বন্ধ করে দিয়েছি।
৩।পশ্চিবাংলায় ৩কোটিরউপরে অবৈধ (বাংলাদেশি,পাকিস্তানী, আফগানী, ও রোহিঙ্গা) মুসলমাদের ভোটার বানিয়ে রেখেছি।
৪।পশ্চিমবাংলা এিপুরা আসাম ও বাংলাদেশ নিয়ে বৃহত্তম মুসলিম দেশ বাংলাদেশ বানাবো।
৫।পশ্চিমবাংলার মুসলিম যুবকদের লাভজিহাদ করে হিন্দু মেয়েদের মুসলিম বানানোর গোপন পারমিশান দিয়েছি।
৬।পশ্চিমবাংলার ১৫০০ এর বেশি পুরানো মন্দির ভেঙ্গে দিয়েছি।
৭।পশ্চিমবাংলায় এশিয়ার সবচেয়ে বড় গরুকাটার ঘর বানিয়েছি।😱
৮।পশ্চিমবাংলায় ৪ লক্ষ গরুকাটার ছোট ঘর বানিয়েছি।😱
৯।পশ্চিমবাংলার সকলহিন্দুদের গরুরমাংস খাওয়ার পারমিশান দিয়ে দিয়েছি।😭
১০। ঈমাম ও মোয়াজেমদের মাসে ১০'০০০ টাকা ভাতা করে দিয়েছি।
১১।পুরোহীতদের দিয়েছি কাচাকলা।
১২।মুসলিম ছাএদেরকে ঢাবল করে দিয়েছি হিন্দুছাএদের থেকে শিক্ষাভাতা।
১৩।হ্বজ ভাতা ৫লক্ষ করে দিয়েছি।
১৪।পৃথিবীর সবচেয়ে বড় হ্বজ টাওয়ার বানিয়ে দিয়েছি।

আরো আছে, তবে এখন নয় !


লাল বাহাদুর শাস্ত্রীজির অপমৃত্যু


    লাল বাহাদুর শাস্ত্রীজির অপমৃত্যু


     ফেসবুক থেকে      শেয়ার করেছেন        প্রণব কুমার কুণ্ডু

লেখাটি একটু দীর্ঘ হয়ে গেল। বড় মানুষের সম্বন্ধে ছোট করে তো আর লেখা যায় না!
_________________________
দোষে গুণে মানুষ। সবই আপেক্ষিক। আমার কাছে যা গুণ বলে মনে হল, আর কারও কাছে তা দোষের হতে পারে। উল্টোটাও হয় স্বাভাবিকভাবে।
তাঁর অনেকগুলি 'দোষ' ছিল। একে তো সোজা সরল সাধাসিধে মাটির মানুষ। তারওপর সারাদেশ জুড়ে তুমুল জনপ্রিয়তা। মনেপ্রাণে চাইতেন সদ্য স্বাধীন হওয়া দেশটি সবদিক দিয়ে স্বাবলম্বী হোক। কৃষি উৎপাদনে স্বয়ম্ভর হোক, প্রতিরক্ষায় স্বয়ম্ভর হোক, বিজ্ঞানে প্রযুক্তিতে কারও মুখাপেক্ষী হয়ে না থাকুক।
স্বাধীন ভারতের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের মধ্যে অগ্রগণ্য, আদর্শপরায়ণ নেতা শ্রদ্ধেয় লাল বাহাদুর শাস্ত্রীজিকে তাঁর এতগুলি মারাত্মক দোষের খেসারত গুনতে হয়েছিল, বেশ চড়া দামে।
ভারতের দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী, লাল বাহাদুর শাস্ত্রীজির জন্ম উনিশশো চার সালের আজকের দিনে, তৎকালীন যুক্তপ্রদেশের (আজকের উত্তরপ্রদেশ) মোগলসরাইতে।
গান্ধীপন্থী নেতা হিসেবে পরিচিত সকলের প্রিয় মানুষটি প্রধানমন্ত্রীত্বের দায়িত্বশীল পদে শপথ গ্রহণ করেন ৯ই জুন, ১৯৬৪তে।
এদিকে, জওহরলাল নেহরুজির মৃত্যুর পরপরই রোমাঞ্চপ্রিয় অস্থিরমতি পাকিস্তান ভারত আক্রমণ করে বসে। দেশে তখন প্রবল খাদ্য সংকট। শাস্ত্রীজি রামলীলা ময়দান থেকে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে স্লোগান তুললেন, "জয় জওয়ান, জয় কিষাণ"। সারা দেশ গর্জে উঠল। শাস্ত্রীজির যোগ্য নেতৃত্বে দুর্দমনীয় ভারতীয় সেনাবাহিনী ১৯৬৫ র পাকিস্তানি আক্রমণকে দুমড়ে মুচড়ে ধূলিসাৎ করে দেয়, জয়ী হয় ভারত।
উনিশশো ছেষট্টির জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে যুদ্ধ পরবর্তী শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য সোভিয়েত ইউনিয়নের তাশখন্দে গেলেন শাস্ত্রীজি। চুক্তি স্বাক্ষর হলেও, তাঁর আর সজ্ঞানে দেশে ফেরা হয়নি।
জানুয়ারির দশ তারিখ। বেলা চারটের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়ে যায়। শাস্ত্রীজি তাঁর নির্দিষ্ট বাসভবনে ফিরে আসেন। সন্ধ্যে নাগাদ হাল্কা আহার সেরে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। সোভিয়েত সরকারের এই বাসভবনে যদিও নিজস্ব পরিচারক ও রাঁধুনীরা ছিল, তবুও ঐ দিনের রান্নার দায়িত্বে ছিলেন তৎকালীন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত টি এন কলের ব্যক্তিগত খানসামা জান মহম্মদ। সেই রাতে শাস্ত্রীজির নিজস্ব পরিচারক রাম নাথকে শাস্ত্রীজির কাছে ঘেঁষতে দেওয়া হয়নি, রান্নার দায়িত্বও দেওয়া হয়নি।
রাত এগারোটা পঁচিশ নাগাদ খান মহম্মদ এক গ্লাস দুধ নিয়ে আসেন শাস্ত্রীজির জন্য। শাস্ত্রীজি তখন তাঁর মেয়ে শ্রীমতী সুমন সিং এর সাথে ফোনে কথা বলছিলেন। সুমনের স্বামী বিজয় নাথ সিং কাইরো যাচ্ছেন, শাস্ত্রীজি জামাইকে খবরের কাগজ সাথে নিয়ে যেতে বললেন। মেয়ে বললেন, 'তুমি এবার ঘুমোও, বাবা। শাস্ত্রীজি বললেন, 'এই তো দুধ নিয়ে এসেছে, দুধ খাবো আর ঘুমোবো।' তারপরই ফোন কেটে যায়।
রাত একটা পঁচিশ নাগাদ প্রবল কাশি আর বুকে ব্যথায় শাস্ত্রীজির ঘুম ভেঙে যায়। মাথার পাশে ঘন্টি টিপলেন, ঘন্টি বাজেনা। ফোন তুললেন, ফোন স্তব্ধ। প্রবল অস্বস্তিতে কোনও মতে উঠে হাতড়াতে হাতড়াতে দরজার দিকে এগোলেন, কেউ কোত্থাও নেই। প্রায় হামাগুড়ি দিয়ে পাশের ঘরে গিয়ে ঘুমন্ত রক্ষীদের ডাকলেন। তারা চোখ কচলে উঠে দৌড়ল ডাক্তারের খোঁজে। শাস্ত্রীজির ব্যক্তিগত চিকিৎসক দিল্লীর সফরদরজং হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধিকর্তা, ডঃ আর এন চুঘকে রাখা হয়েছে বেশ কিছুটা দূরে। তিনি দৌড়ে যখন এলেন, তখন প্রায় সব শেষ। ডঃ চুঘ কাঁদতে কাঁদতে বললেন, 'বাবুজি, আমাকে একটুও সময় দিলেন না, বাবুজি!'
সোভিয়েত সরকারের টনক নড়ল। কিছু একটা গোলমাল হয়েছে, বা হচ্ছে আন্দাজ করে কেজিবির নবম ডাইরেক্টরেট, যাঁরা ভিআইপিদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকত, তৎক্ষণাৎ কাজে নেমে পড়ল। বাসভবনের মুখ্য পরিচারক, আহমেদ সাত্রভকে ভোর চারটের সময় তুলে নিয়ে যাওয়া হল গোপন দপ্তরে। সাথে আরও তিন সহকারী। সাত্রোভের বয়ানে জানা যায়, তদন্তের ভয়াবহতায় ঐ কয়েক ঘন্টায় তাঁদের চুল কালো থেকে সাদা হয়ে যায়। সোভিয়েত গোয়েন্দাদের একটিই প্রশ্ন ছিল, "বিষ কে মিশিয়েছে?" [ এইখানে একটু ছোট্ট সংযোজন দাবী রাখে। পূর্বতন সেভিয়েত ইউনিয়ন, মহামতি স্ট্যালিনের মানুষের মৃত্যুবিষয়ক অনন্ত ঔৎসুক্যের কারণে, বিষের ব্যাপারে, বলা ভালো বিষ প্রয়োগে মৃত্যুর ব্যাপারে রাষ্ট্রীয়ভাবে চূড়ান্ত বিশেষজ্ঞস্থানীয় ছিল, সম্ভবত আজও আছে। একটি মন্ত্রকই ছিল সেসময়, এই ব্যাপারে গবেষণা ও তৎসম্বন্ধীয় পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য। কেজিবি যে বিষপ্রয়োগে মৃত্যু স্রেফ খালিচোখে দেখলেই বুঝতে পারবে তাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই।] কিছুক্ষণ পরে জান মহম্মদকেও সেখানে নিয়ে আসা হয়। সাত্রোভ পরে সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, "ওকে দেখেই আমার মনে হয় - এই সেই লোক।"
শাস্ত্রীজির মৃতদেহকে সেই দিনই, অর্থাৎ ১১ ই জানুয়ারি দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। শরীর যাতে বিকৃত না হয়, তাই এমবাম করা হয়েছিল তাশখন্দেই। তবুও নিকটাত্মীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে জানা যায়, শাস্ত্রীজির দৃশ্যমান সারা মুখমণ্ডলে নীলচে ছোপ ছোপ দাগ ছিল, ছিল সারা শরীর জুড়ে বড় বড় ফোস্কা। পেটে আর ঘাড়ের পেছনে দুটি গভীর ক্ষত ছিল। ঘাড়ের ক্ষতটি দিয়ে তখনও রক্তক্ষরণ হচ্ছিল, সারা বিছানা রক্তে ভেজা ছিল।
আত্মীয়দের কাছে ঘেঁসতে দেওয়া হয়নি, মৃতদেহের পোস্টমর্টেম করার দাবীকেও নস্যাৎ করে দেওয়া হয়। তড়িঘড়ি সৎকার করে ফেলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর নশ্বর দেহ। স্ত্রী ললিতা শোকে পাথর, মা শোকে মূহ্যমান- কে আর বাধা দেবে?
নেহরু কন্যা ইন্দিরা পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হলেন। শাস্ত্রীজির মৃত্যু রহস্যের কিনারা করতে বহুবার সংসদে আওয়াজ তুলেছেন কিছু জনপ্রতিনিধি। সরকার কান দেয়নি। ইন্দিরা গান্ধী জরুরি অবস্থা জারির কারণে ক্ষমতাচ্যুত হবার পর, জনতা সরকার প্রথম একটি সংসদীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে শাস্ত্রীজির মৃত্যুর কিনারা করতে। সেই কালান্তক সফরে শাস্ত্রীজির ব্যক্তিগত চিকিৎসক, ডঃ আর এন চুঘ এবং শাস্ত্রীজির নিজস্ব পরিচারক রাম নাথকে সংসদে এসে নিজ নিজ বয়ান নথিবদ্ধ করতে অনুরোধ করা হয়।
ডঃ চুঘ সাক্ষ্য দিতে নিজের গাড়িতে করে দিল্লি আসছিলেন। সাথে স্ত্রী, ডঃ সরোজিনী চুঘ, চোদ্দ বছর বয়সী ছোট ছেলে শৈলেন্দ্র, তের বছর বয়সী কন্যা শোভা। একটি ট্রাক পথেই তাঁদের পিষে দিয়ে যায়। ছোট মেয়েটি কোনওক্রমে প্রাণে বেঁচে যায়, তবে সারাজীবনের মতো পঙ্গু হয়ে যায়। বড় ছেলে উপেন্দ্র বাড়িতে থাকায় রক্ষা পায়।
ওদিকে রাম নাথ, সাক্ষ্য দিতে যাবার আগে শাস্ত্রীজির বিধবা স্ত্রী ললিতাদেবীর সাথে দেখা করে, বলে, "মা, আজ বহুদিন বহুকথা বুকে জমে, ভার হয়ে চেপে বসে আছে। আজ সব কথা বলে হালকা হবো, মা।"
রাম নাথ হালকা হয়েছিল বটে, তবে সাক্ষ্য আর দেওয়া হয়নি। সংসদের সামনেই একটি চলন্ত গাড়ি তাকে ধাক্কা দিয়ে পায়ের ওপর দিয়ে চলে যায়। দুটো পা কেটে বাদ দিতে হয়, মাথার আঘাতে স্মৃতিশক্তিও লোপ পায়।
সবই কাকতালীয়।
সংসদীয় কমিটির রিপোর্ট পেশ হয়, তবে তার আর হদিশ পাওয়া যায় না। তথ্য আইনের সূত্র ধরে কেউ কোনও তথ্য জানতে চাইলে জানানো হয় ফাইল হারিয়ে গেছে, নথি নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। ইন্দিরা সরকারে ফিরে এসে দুটি কাজ করেছিলেন। অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে নেতাজির অন্তর্ধান ও শাস্ত্রীজির রহস্য মৃত্যু সংক্রান্ত সব তথ্য নষ্ট করে ফেলেন ভারতের অগ্নিকন্যা। অনেক ফাইল নাকি আক্ষরিক অর্থেই পোড়ানো হয়েছে এই সময়।
তবুও শাস্ত্রীজির মৃত্যুতে ইন্দিরা দেবীর সম্ভবত কোনও হাত ছিল না। এই মৃত্যুতে দৃশ্যত তিনি লাভবান হয়েছিলেন বটে, তবে এই ঘটনায় মুখ্য কুশীলব হবার সম্ভাবনা বা সুযোগ কোনটিই সেসময় তাঁর ছিলনা বললেই চলে।
ভারত পাকিস্তানের সম্পর্ক সে সময় তলানিতে ছিল। পাকিস্তান সেসময় ছিল যুক্তরাষ্ট্র আমেরিকার স্বাভাবিক মিত্র। শাস্ত্রীজির মৃত্যুর সমসাময়িক কয়েকটি রহস্য মৃত্যুর দিকে নজর করা জরুরি। যেমন, ভারতীয় বিজ্ঞানী হোমি জাহাঙ্গীর ভাবার মৃত্যু। শাস্ত্রীজির মৃত্যুর দু সপ্তাহের ব্যবধানে এই তথাকথিত বিমান দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল। ভাবা এক প্রথিতযশা পরমানু বিজ্ঞানী ছিলেন। লাল বাহাদুর শাস্ত্রী ভারতকে পরমানু শক্তিধর রাষ্ট্র বানাতে বদ্ধপরিকর ছিলেন। আমেরিকা বিশেষত আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ সেই সময় সারা পৃথিবী জুড়ে সম্ভাব্য পরমানু গবেষণাকেন্দ্রগুলিকে অঙ্কুরেই বিনাশ করার নীতি নিয়ে চলছে। ডঃ ভাবা ও শাস্ত্রীজির মৃত্যু একটি বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ, একই সুতোয় বাঁধা।
শাস্ত্রীজির মৃত্যুর বহুদিন পরে সিআইএর পরিকল্পনা বিভাগের অধিকর্তা রবার্ট ক্রলি সাংবাদিক গ্রেগরি ডগলাসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছিলেন এই চক্রান্তের কথা। শর্ত ছিল মৃত্যুর আগে সেই সাক্ষাৎকার প্রকাশ করা যাবে না।
উপমহাদেশে এই সকল চক্রান্তকে বাস্তবায়িত করার জন্য পাকিস্তানি ভাড়াটে গুণ্ডাদের সুনাম বিশ্বজোড়া। পাকিস্তানি রপ্তানি বানিজ্যের একটি মুখ্য অংশই বলা যায় এঁদের। অতএব সিআইএকে খুব একটা মাথা ঘামাতে হয়নি।
একটি অন্য রহস্য মৃত্যুর কথা এই প্রসঙ্গে বলে রাখা ভালো। পাকিস্তানের রূপকার মহম্মদ আলি জিন্নার মৃত্যুও যদিও বেশ রহস্যজনক, তবে তাঁর মৃত্যু নয়, তাঁর ইস্পাত হৃদয় বোন, "খাতুন-এ- পাকিস্তান", " মাদার অফ দ্য নেশন", ফতিমা জিন্নার মৃত্যুর দিকে নজর দেওয়া যাক।
ফতিমা জিন্না ছিলেন মহম্মদ আলি জিন্নার সবচেয়ে আদরের এবং নির্ভরযোগ্য নেত্রী। জিন্নার অকস্মাৎ মৃত্যুর পর, তাঁকে প্রবলভাবে একঘরে করা হয়, তাঁর গতিবিধি ও স্বাধীন মতপ্রকাশে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। তবুও একেবারে আটকে রাখাও যায়নি।
উনিশশো পঁয়ষট্টির রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তিনি স্বঘোষিত রাষ্ট্রপতি একনায়ক জেনারেল আয়ুব খানের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র রক্ষায় এক অসম প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হলেন। এক মুসলিম রমনী একটি মুসলিম রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদ কিভাবে পেতে পারেন! জেনারেল আয়ুব খান নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করে জিতলেন বটে, তবে জনতার সমর্থন কিন্তু ছিল ফতিমা জিন্নার দিকেই। সেনাবাহিনীর চোখ এড়ায়নি ব্যাপারটি।
জুলাইয়ের নয় তারিখ, ১৯৬৭ সাল, ফতিমা জিন্না করাচিতে তাঁর নিজের বাসভবনে মারা গেলেন। ডাক্তারেরা বললেন, হার্ট এ্যাটাক।
ভোপালের ভাবী বেগম, স্বাধীনতার পর পাকিস্তানে স্বেচ্ছায় চলে যাওয়া, ফতিমা জিন্নার অনুরাগী আবিদা সুলতান তাঁর "Memoirs of a Rebel Princess" গ্রন্থে লিখছেন,
“I found Miss Jinnah lying surrounded with blocks of ice. There were blue patches on her face, mainly the left eye. There was some blood on the covering sheet, but I could not detect whether it had come out from the ear, nose or mouth”.
মৃত্যুতে কি মিল!
এককালে জিন্নার ব্যক্তিগত সচিব, পাকিস্তানের প্রাক্তন এ্যাটর্নি জেনারেল, সরিফুদ্দিন পীরজাদা বলেছিলেন, ফতিমা জিন্নাকে তাঁর রাঁধুনি বিষ খাইয়ে মেরে ফেলেছিল, কারণ সেনা সরকার তিনি বেঁচে থাকুন, তা চায়নি।
সবই কাকতালীয়!
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট হয় না। আজ ক্ষমতায় ইন্দিরাজি নেই, আজ সিআইএকে ভয় পাবে ভারত, পরিস্থিতি এমনও নয়। বাজপেয়ীজি যখন পোখরানে পরমাণু বিস্ফোরণ ঘটালেন, সিআইএর কাছে পুরোটাই ছিল ধোঁয়াশা। তাহলে আজও কেন রহস্যে থাকবে ভারতের বীর সিংহদের মৃত্যু বা অন্তর্ধান? কিসের এতো লুকোচুরি, কিসের এতো ফিসফিসানি! কবে এই কুচক্রী ভণ্ডদের মুখোশ টেনে ছেঁড়া হবে! নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস, লাল বাহাদুর শাস্ত্রীজির আত্মবলিদান, দেশের প্রতি তাঁদের কর্তব্য কর্ম আমরা ভুলতে পারিনা, সে ঋণ শোধ হবার নয়, তাই বলে তাঁদের প্রতি অসম্মান অবমাননার জবাবটুকুও কি আমরা দিতে পারব না কোনওদিন? এই অন্যায় গোপনীয়তার শেষ দেখতে চাই আমরা, যত দ্রুত হয় তত ভালো।
জয় জওয়ান, জয় কিষাণ। লাল বাহাদুর শাস্ত্রী অমর রহে। জয়হিন্দ।

লাইকআরও প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করুন
মন্তব্য
মন্তব্যগুলি

সোমবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৮

'এক নজরে ইসলাম' বইটি ...


'এক নজরে ইসলাম' বইটি ...



'এক নজরে ইসলাম' বইটি
অসামান্য !
এটি হিন্দু ধর্মশাস্ত্র হিসাবে
গণ্য করা উচিত !
যাতে
সকল হিন্দু
মুসলমানদের সম্বন্ধে
এবং ইসলাম সম্বন্ধে
সম্যকভাবে
অবহিত হতে পারেন !

অধিকন্তু
প্রয়োজনে
উপযুক্ত ব্যবস্থা
গ্রহণ করতে পারেন !

লেখক : ডঃ রাধেশ্যাম ব্রহ্মচারী
সেভ ইন্ডিয়া মিশন
বিই - ৩০০
সল্টলেক সিটি
কলকাতা - ৭৯৯ ০৬৪।

প্রকাশক : তুহিনা প্রকাশনী
১২সি
বঙ্কিম চ্যাটার্জি স্ট্রিট
কলকাতা ৭০০ ০৭৩।

মূল্য : চল্লিশ টাকা।
ভারতীয় পত্রমুদ্রায়।

শনিবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৮

আমেরিকা-ভিয়েতনাম যুদ্ধ


      আমেরিকা-ভিয়েতনাম যুদ্ধ


      ফেসবুক থেকে      শেয়ার করেছেন         প্রণব কুমার কুণ্ডু

এমন একটা যুদ্ধ যে যুদ্ধে আমেরিকা না শুধু হেরে গিয়ে ছিল ! বরং সে যুদ্ধে আমেরিকার মজবুত ভিত পর্যন্ত নাড়িয়ে দিয়ে ছিল! হ্যাঁ সে যুদ্ধ ভিয়েতনাম যুদ্ধ
তো পুরো রামায়ন শুরু করার আগে দুটো কথা জানা দরকার (1) ভিয়েতনামে যুদ্ধ যাবার আগে 60% বেশি আমেরিকি সেনা ভিয়েতনামের নাম পর্যন্ত শুনেনি ! (2) পুরো আমেরিকা মিলে আজও সেই যুদ্ধের দাগ মুছার চেষ্টাই লেগে আছে ! কিন্তু এই কথাটা জানার দরকার দাগ এটা নয় যে আমেরিকা সে যুদ্ধে পুরোপুরি হেরে গিয়ে ছিল !আসল দাগ তো এটা যে সে যুদ্ধ জিতার জন্য আমেরিকা সেখানে কি করেছিল !

দেখা যায় তো ভিয়েতনাম যুদ্ধে আমেরিকার এন্ট্রি হয় 1965 ! কিন্তু ভিয়েতনাম যুদ্ধে কাহানি শুরু হয় এর অনেক আগে থেকে ! সেই সময় থেকে যখন ভিয়েতনাম নামে কোন দেশ ছিল না !

সেই জন্য রামায়ণ শুরু করতে হবে 1941 সালে।
কারন 1860 থেকে 1941 পর্যন্ত ফ্রান্সের একটা দেশের উপর দখল ছিল ! আর সে দেশটা হল ফ্রেঞ্চ ইন্দোচাইনা ! সেটা আসলে তিনটে দেশ নিয়ে তৈরি হয়ে ছিল! সেগুলো হলো (1) লাউস (2)কম্বোডিয়া ( 3) ভিয়েতনাম ! কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরুর দিকে জাপান সে এলাকাটা ফ্রান্সের কাছথেকে কেড়ে নেই ! আর সেখানে জাপানের রাজ চালু করে ! কিন্তু যখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষের দিকে জাপান হেরে গিয়ে আত্মসমর্পন করে ! তখন সেখানে থাকা জাপানি সেনাদের কেউ আত্মসমর্পন করতে হয় ! আর এই সেই সময় যেখান থেকে ভিয়েতনামের কাহানি শুরু হয় ! কারণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানি সেনা সেখানে দুটো দেশের সেনার সাথে লড়াই করছিল ! সেগুলো হল ব্রিটেন আর চাইনা ! আর যখন আত্মসমর্পন করে ! তখন জাপানের সেনা দুটো আলাদা আলাদা দেশের কাছে আত্মসমর্পন করে ! উত্তরে থাকা সেনারা আত্মসমর্পন করে চাইনার কাছে ! আর দক্ষিণে থাকা সেনারা আত্মসমর্পন করে ব্রিটেনের কাছে! কিন্তু এখানে ব্রিটেন নিজের স্বার্থের জন্য জিতা এলাকাটা সেখান কার লোকাল পার্টি কে না দিয়ে সেটা কে আবার ফ্রান্স কে দিয়ে দেয় ! কিন্তু চাইনা এমনটা করেনি ! চাইনা জিতা এলাকাটা সেখান কার লোকাল পার্টির হাতে তুলে দেয় ! যার নাম ভিয়েতমিন আর যার লিডার ছিল হো চি মিন ! আর যখন ফ্রান্সের সেনা সে জায়গাতে আবার নিজেদের দখলে নিতে আসে ! তো সেখানে যুদ্ধ লেগে যায় ! যে যুদ্ধ না শুধু 1946 থেকে 1954 পর্যন্ত চলে বরং যাকে প্রথম ইন্দোচাইনা যুদ্ধ নামে জানে ! আর এই যুদ্ধে দুটো কাজ করে 1:- সেখান কার মানুষদের শিখিয়ে দেয় যুদ্ধ কেমন তরে লড়তে হয় !কারণ সে যুদ্ধে তারা গোরিলা ওয়ারফেয়ারের মতো যুদ্ধ কৌশল শিখে !( এখানে একথা টা মনে রাখতে হবে যে উত্তরের হয়ে লড়াই করছিলে সেখান কার লোকাল মানুষ ¡ আর দক্ষিণের হয়ে লড়াই করছিল ফ্রান্সের সেনা )।

2:- এই যুদ্ধে ফ্রান্স না শুধু হারে !এমন ভয়ঙ্কর ভাবে হারে যে তাদের সেনাদের জীরন বাঁচানোর জন্য আলচনার টেবিলে পর্যন্ত যেতে হয় !আর তারপর 1954 সালে জেনেভাতে একটা শান্তি চুক্তি হয় ! যার মধ্যে তিনটে আলাদা আলাদা দেশ কে স্বাধীন দেশ হিসাবে ঘোষণা করাহয় ! যে গুলো হল
1:- লাউস
2:- কম্বোডিয়া
3:- ভিয়েতনাম
কিন্তু পশ্চিমা দেশের রাজনেতার এখানেও সে খেলা খেলে ! যে খেলা তারা এর আগেও খেলে ছিল কোরিয়ার সাথে আর পুরস্কার হিসাবে তাদের হাতে ছিল দক্ষিণ কোরিয়া ! তার মানে এরা ভিয়েতনাম কে স্বাধীনতা তো দিল ! কিন্তু নিজের স্বার্থের জন্য ভিয়েতনাম কে দুটো ভাগে ভাগ করে দেয় ! এই বলে যে,  কিছু দিন পরে সেখানে ভোট হবে আর দুটোএলাকা মিলে একটা দেশ হয়ে যাবে !

এখানেই শেষ নয় দক্ষিণ ভিয়েতনামে নিজেদের লোক কে লিডার বানিয়ে ক্ষমতায় বসাই যার নাম NGO DINH DINE ! আর উত্তর ভিয়েতনামের লিডার হয় হো চি মিন ! যে না শুধু কমিউনিস্ট ছিল,  তাঁর কাঁধে সোভিয়েত ইউনিয়েনের হাত ছিল ! আর এভাবে দক্ষিণ ভিয়েতনাম আর উত্তর ভিতেনাম দুটো আলাদা আলাদা দেশ তৈরি হয় ! যাদের আলাদা আলাদা রাজধানী তৈরি হয় ! উত্তরের রাজধানী হল হ্যানয় ! আর দক্ষিণের রাজধীন সাইগন !

পশ্চিমাদেশগুলো তাদের খেলায় জিতেও জেত ! কিন্তু তারা দক্ষিণ ভিয়েতনামে লিডার বাছতে অনেক বড় ভুল করেন ! কারণ তাঁরা দক্ষিণ ভিয়েতনাম কে লোকতান্ত্রিক বানাতে চেয়ে ছিল ! আর লিডার বেছেছিল,  সে ছিল রাজতান্ত্রিক এরং খুব অত্যাচারি !আর এজন্য দক্ষিণ ভিয়েতনামের মানুষেরা,  যার লোকতন্ত্র ভিয়েতনামের সপ্ন দেখছিলেন ! তারা একটা পার্টির ঝান্ডার নিচে এসে জোট হয়ে দক্ষিণ ভিয়েতনাম সরকার বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে দেয় ! আর যাকে সাহায্য করছিল উত্তর ভিয়েতনাম !

আর এখান থেকে এই যুদ্ধে আমেরিকার এন্ট্রি শুরু হয় ! আর এখান থেকে শুরু হয় ভিয়েতনাম যুদ্ধ ! কারণ ভিয়েত কোং দক্ষিণ ভিয়েতনামের সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করে দেয় ! আর উত্তর ভিয়েতনাম দক্ষিণ ভিয়েতনামের উপর হামলা শুরু করে দেয় ! আর তখন আমেরিকা দক্ষিন ভিয়েতনাম কে সাহায্য করতে শুরু করে দেয় ! এখানে একটা কথা জানার দরকার ! যে দক্ষিণ ভিয়েতনামের মানুষগুলোর আমেরিকার কোন আত্মীয় ছিলো না ! আসলে আমেরিকা কমিউনিস্ট কে আটকাতে চাইছিল ! কারণ আমেরিকার ভয় ছিল ! যে ভিয়েতনাম হয়ে কমিউনিস্ট সারা দক্ষিণ এশিয়া না ছড়িয়ে পরে আর সেই জন্য এই ব্যবস্থা করা ! আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জন কেনেডি আমেরিকার আর্মি এডাভাইজারদের ! সেখানে পাঠাতে শুরু করে ! কিন্তু কেনেডি আমেরিকি আর্মি সেখানে পাঠানি ! এমন কি যখন উত্তর ভিয়েতনাম দক্ষিণ ভিয়েতনামে উপর সব থেকে বড় হামলা করে ! সেই সময়ের আমেরিকার ডিফেন্স সেক্রেটারি জন কেনেডি কে 200000 আর্মি পাঠানোর পরামর্শ দেয় ! কিন্তু কেনেডি এই পরামর্শ কে অগ্রাহয্য করে এবং তিনি আমেরিকি আর্মি এডভাইজ সংখ্যা আরো বারানো শুরু করে দেয় ! এখানেই শেষ নয় ! 2 নভেম্বর 1963 দক্ষিণ ভিয়েতনামে প্রেসিডেন্ট ngo dinh dien কে হত্যা করে দেয় ! কিন্তু তারপর কেনেডি সেখানে সেনা পাঠানি ! আসলে কেনেডি কি করতে চাইছিল সেটা আমরা কখনো জানতে পারবো না ! কারণ 22 নভেম্বর 1963 আমেরিকার প্রেসিডন্ট জন কেনেডি কে হত্যা করা হয় ( অনেক ইতিহাসকারের দক্ষিণ ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট আর আমেরিকার প্রেসিডেন্টের হত্যা যোগ করে দেখেন )। তারপর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হয় লিন্ডন বি জনসন ! যিনি ভিয়েতনামে সেনা পাঠানোর জন্য তৈরি হয়ে বসেছিলেন ! তখন শুধু দরকার ছিল একটা অজুহাতে যেটা কারণ মনে করে ভিয়েতনামে সেনা পাঠাতে পারে ! কারণ আমেরিকা দক্ষিণ ভিয়েতনামের সাহায্যের জন্য সরাসরি সেনা সেখানে নামাতে পারবে না,  যদি এমন হয় তো সোভিয়েত ইউনিয়ন উত্তর ভিয়েতনাম কে সাহায্যের জন্য সেনা নামিয়ে দিতো! আর সেজন্য অনেক দিন কেটে যাবার পর যখন কোন কারণ খুঁজে না পায়,  তখন কারণ তৈরি করা হয় আগস্ট 1964 আমেরিকা Gulf of tonkin-এ দাড়িয়ে,  USS maddox কে দক্ষিণ ভিয়েতনাম সেনাদের দিয়ে হামলা করায় ! আর সারা পৃথিবীকে এটা বলে যে এই হামলা উত্তর ভিয়েতনাম করে ! তার পর 4 আগস্ট 1964 ussকংগ্রেসের কাছ থেকে Gulf of tonkin নামে একটা প্রস্তাব পাস করায় ! এর সাহায্য আমেরিরা ভিয়েতনাম যুদ্ধে ঝাপিয়ে পরে ! এখানেই শেষ নয় ! যে সময় আমেরিকা ভিয়েতনাম যুদ্ধে ঝাপিয়ে পরে সে সময় সেখানে 23000বেশি আমেরিকি আর্মি এডভাইজার আগে থেকে সেখানে উপস্থিত ছিল !আর এখান থেকে আমেরিকা উত্তর ভিয়েতনামে উপর বোম ফেলতে শুরু করে!যাতে জঙ্গল গুলোকে নষ্ট করতে পারে ! কারন উত্তর ভিয়েতনামের সেনারা জঙ্গলে থাকা গাছের জন্য গোরিলাযুদ্ধ লড়ছিল ( এখানেই শেষ নয় জঙ্গল নষ্ট করার জন্য কেমিক্যালের সাহায্য নেয় যাতে করে জঙ্গলে আগুন লেগে যায়। উত্তর ভিয়েতনাম সেনা সে আগুনে জ্বলে মারা যায় ! কিন্তু হয় তার ঠিক উল্টো। সে আগুনে ভিয়েতনামে সেনা মারাতো যায়নি মারা গিয়েছিল সেই খানকার হাজার হাজার সাধারণ মানুষ আগুনে জ্যন্ত পুড়ে মারা গিয়েছিল !বরং ভিয়েতনামের জঙ্গল গুলো এমন ভাবে নষ্ট হয়েছিল ! যার ক্ষতচিহ্ন এখনো চোখে পড়ে ! আর যদি কথা বলাহয় ভিয়েতনামের সেনাদের তারা আমেরিকার বোমার থেকে বাঁচার জন্য না শুধু উত্তর ভিয়েতনামে সুরঙ্গের জাল বিছিয়ে দিয়েছিল ! বরং এত বেশি সুরঙ্গ বানিয়ে ছিল যে পুরো উত্তর ভিয়েতনামে সেনা সেখানে আরামে থেকে যেতে পারে ! এখানেই শেষ নয়,  উত্তর ভিয়েতনামের সেনা আমেরিকি বায়ুসেনার মনোবল ভাঙ্গার জন্য অদ্ভুত একটা উপাই বের করে ! যে টা খুব সুন্দর কাজ করে ! কারনণ উত্তর ভিয়েতনামের সেনারা জমির উপর ক্যাম্প গুলো সব কাঠের তৈরি করা চালু করে ! যাতে আমেরিকি বোম্বিংয়ে যখন কোন ক্যম্প নষ্ট হয় যায় ! সেটাকে তাড়াতাড়ি ঠিক করা যায়! এর ফলে বোম্বিংয়ে কিছুদিন পরে আমেরিকি ফাইটার জেট সেই জায়গাতে যেতে তাদের সবকিছুই আগের মতো দেখতে লাগতো !এর কারণে আমেরিকিদের বোম্বিংয়ে কোন কাজ হয় না। তখন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট স্থলসেনা কে পাঠাবার অনুমতি দেয় ! আর 1965 শেষ হতে হতে আমেরিকার 150000 সেনা ভিয়েতনামে নামিয়ে দেয় ! তাদের জন্য অপেক্ষা করছিল ভিয়েতনামের 250000 সেনা ! যাদের হাতে না শুধু রাশিয়ার দেয়া হাতিয়ার ছিল বরং সুরঙ্গের পুরো চাল বিন্যাস ছিল ! যার সাহায্যে ভয়ঙ্কর যুদ্ধ চালুকরে দেয় ! এই দেখে আমেরিকা বুঝতে পারে যে 150000সেনা দিয়ে কিছুই হবে না! এই জন্য আমেরিকা তাদের সৈন্য সংখ্যা বারাবে ঠিক করে ! আর জানুয়ারি 1966 আমেরিকার 180000 সেনা ভিয়েতনামে পৌছে যায় আর জুলাই 1966আস্তে আস্তে 300000 র যায় ! বরং 1968;আস্তে আস্তে 500000 আমেরিকি সেনা ভিয়েতনামে নামিয়ে দেওয়া হয় ! কিন্তু সফল হওয়া দুরে থাক উল্টে ভিয়েতনামে সেনা আমেরিকি সেনাদের গিরে ঘিরে মারতে থাকে কারণ তারা হঠাং সুরঙ্গ থেকে এসে হামলা করে আবার সুরঙ্গের মধ্যে চলে যেতো ! এখানেই শেষ নয় আমেরিকি সেনা এরকম জঙ্গল আর দলের মধ্যে প্রথম বার যুদ্ধ করছিল ! আর যখন 30 জানুয়ারি 1968 থেকে 23সেপ্টেম্বর 1968 মধ্যে আমেরিকার দুতবাস সমেত পুরো দক্ষিণ ভিয়েতনামের উপর এক সাথে হামলা করে যাকে Tet of fensive নামে পরিচিত ! কিন্তু হামলা করে তারা সফল তো হয়নি ! কিন্তু এই সেই হামলা যার খবর আমেরিকা পৌছে যায়,  আর শুধু এই খবর আমেরিকা পৌছাইনি বরং এই সেই খবর যার সাথে ভিয়েতনাম যুদ্ধ আমেরিকায় পৌছায় ! এখানেই শেষ নয় যখন আমেরিকার মিডিয়া আমেরিকার সরকারের সাথ ছেড়ে দেয় আর যখন ভিয়েতনামের যুদ্ধের সত্য আমেরিকার খবরের কাগজে ছাপে ! তখন আমেরিকার জনগন অবাক হয়ে যায় ! এখান থেকে আমেরিকার জনগন জানতে পারে যে ভিয়েতনাম যুদ্ধে জিতাতো দুরের কথা,  সেখানে তো আমেরিকার সেনাদের জীবন বাঁচানো কষ্টের ব্যাপার !,এখানেই শেষ নয় আমেরিকার খবরের কাগজে সমস্ত কিছু ছাপে যা, তখন আমেরিকার জনগণ জানতে পারে -- আমেরিকি সেনা ভিয়েতনামে কি করছে কেমন করে আমেরিকি সেনা যারা জিততে পরছেনা বলে তারা সমস্ত গ্রাম সাময়িক নরসংহার চালাছে ! আর এই জন্য পুরো আমেরিকাতে ভিয়েতনাম যুদ্ধের বিরোধিতা করে মিছিল শুরু হয়ে !এই মিছিল এমন রুপ নেই যে অনেক মনে করে যে এমন হতে থাকলে আমেরিকা টুকরো টুকরো না হয়ে যায় ৷তখন এমন একটা ছবি সামনে আসে যাতে আমেরিকি বায়ুসেনা একটা গ্রামের উপর বোমা ফেলে যাতে হাজার হাজার বাচ্ছা জীবন্ত জ্বলে মারা যায় ৷তখন মনে হয় আমেরিকাতে ভুমিকম্প হয়ে যায়! আর এসবকিছু করছে সেদেশের সেনা যারা সেখানে লোকতন্ত্র বাঁচাতে গিয়ে ছিল! এখানে একথা টা মনে রাখতে হবে যে ভিয়েতনাম যুদ্ধে আমেরিকার বায়ুসেনা যত বোম ফেলে তা পুরো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ফেলে হয়নি !
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে =2.150.000টন
ভিয়েতনাম যুদ্ধে =7.662.000টন
আর এখান থেকে আমেরিকার জনগণের এতবেশি চাপ আসে, যে শেষমেষ 1973 আস্তে আস্তে আমেরিকা তাদের সেনা ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয় !
ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় 58000 আমেরিকি সেনা মারা যায় ! আর 150000-এর বেশি সেনা আহত হয় ! আর যদি ভিয়েতনামের কথা বলা হয়,  তো সেখানে পুরো ভিয়েতনাম মিলিয়ে 2000000 মানুষ মারা যায় ! আর এই ভাবে আমেরিকা এই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসে ! আমেরিকা যাবার 2 বছর পর 1975 উত্তর ভিয়েতনাম দক্ষিণ ভিয়েতনাম দখল করে নেই ! এই ভাবে উত্তর ভিয়েতনাম আর দক্ষিণ ভিয়েতনাম মিলে একটা দেশ হয়ে যায় এবং দক্ষিণ ভিয়েতনামের রাজধানীর নাম পাল্টে দিয়ে নাম রাখা হয় হো চি মিন !


লাইকআরও প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্যগুলি

জলবিষুব


     জলবিষুব



     ফেসবুক থেকে       শেয়ার করেছেন      প্রণব কুমার কুণ্ডু






Binod Saradar একটি ফটো শেয়ার করেছেন৷


ভূগোলিকা - Bhugolika
িনরাত্রি সমান। সাধারণত ২৩ সেপ্টেম্বর তারিখটিতে (কখনও কখনও ২২ শে সেপ্টেম্বর) যখন বিষুব হয়, তখন উত্তর গোলার্ধে শরৎকাল চলে, তাই এই বিষুবকে জলবিষুব বা শরৎকালীন বিষুব (Autumnal Equinox) বলে। বিষুব (Equinox) শব্দটির অর্থ হল দিনরাত্রি সমান। আজকের দিনে সূর্য নিরক্ষরেখার ওপর মধ্যাহ্নে লম্বভাবে কিরণ দেয় এবং পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিন -- উভয় গোলার্ধে দিনরাত্রি প্রায় সমান হয়। বিষুবের সময়, সারা পৃথিবী জুড়ে দিনরাত্রি প্রায় সমান হয়। তবে সূর্যের কৌনিক আকার ও বায়ুমন্ডলের প্রতিসরণের কারণে তা একেবারে সমান সমান হয় না।
#ভূগোলিকা_Bhugolika

লাইকআরও প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করুন
মন্তব্য করুন
মন্তব্যগুলি