শনিবার, ২ মার্চ, ২০১৯


   প্রাচীন রোম


   ফেসবুক থেকে         শেয়ার করেছেন                প্রণব কুমার কুণ্ডু


প্রণব কুমার কুণ্ডু










প্রাচীন রোম পৃথিবীর সমৃদ্ধতম প্রাচীন সভ্যতাগুলোর মধ্যে অন্যতম যা খ্রিষ্টপূর্ব ৮ম শতাব্দীর প্রথমভাগে ইতালীয় উপদ্বীপে সূচীত হয়। রোম শহরকে কেন্দ্র করে ভূমধ্যসাগরের তীর ধরে এই সভ্যতা বিকাশিত হতে থাকে, এবং কালক্রমে একটি প্রাচীন যুগের বৃহত্তম সাম্রাজ্যে পরিণত হয়।
এই সভ্যতার স্থায়ীত্বকাল ছিল প্রায় বারো শতক এবং এ দীর্ঘ সময়ের পরিক্রমায় রোমান সভ্যতা একটি রাজতন্ত্র থেকে একটি সম্ভ্রান্ত প্রজাতন্ত্র এবং পর্যায়ক্রমে একটি একনায়কতন্ত্রী সাম্রাজ্যে পরিবর্তিত হয়। যুদ্ধ বিজয় এবং আত্তীকরণের মাধ্যমে এটি দক্ষিণ ইউরোপ, পশ্চিম ইউরোপ, এশিয়া মাইনর, উত্তর আফ্রিকা, উত্তর ইউরোপ এবং পূর্ব ইউরোপেরএকাংশকে এর শাসনাধীনে নিয়ে এসেছিল। রোম ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের সবচেয়ে প্রভাবশালী সাম্রাজ্য এবং প্রাচীন বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী সাম্রাজ্যগুলোর একটি ছিল। এটিকে প্রায়ই প্রাচীন গ্রিস সাথে একত্রে "উচ্চমানের পুরাতাত্বিক নিদর্শনের" মধ্যে দলবদ্ধ করা হয় এবং এদুটি সভ্যতার সাথে অনুরূপ সংস্কৃতি ও সমাজ মিলে একত্রে গ্রেকো-রোমান বিশ্ব হিসাবে পরিচিত। নর্ডিক জাতি কর্তৃক রোমান সভ্যতা ধ্বংস করা হয়।
রোমান কাদের বলা হত?
রোমানদের উৎপত্তি মূলত ইতালিতে। সাম্রাজ্যের রাজধানী রোমের নামানুসারে তাদের নামকরণ করা হয়েছে রোমান। শহর হিসাবে রোমের বিকাশের সময়কাল খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দী। টাইবার নদীর তীরে অবস্থিত রোম শহর চারদিকে সাতটি পাহাড় দিয়ে বেষ্টিত। শুরুতে রোমান সাম্রাজ্যের স্থানিক সীমা শুধু বর্তমান ইতালির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে দু’শ বছর পর থেকে সাম্রাজ্যের সীমানা ইতালির বাইরেও প্রসারিত হতে থাকে। সেই সময়ে ইতালির বিভিন্ন অংশে বাস করত অনেকগুলো ভিন্ন ভিন্ন গোত্রের মানুষ। তাই রোমান সাম্রাজ্যকে কোনো একটি বিশেষ জাতিগোষ্ঠীর সাম্রাজ্য না বলাই ভাল।
শুরুতে রোমান সভ্যতা ছিল অনেকগুলো নগর রাষ্ট্রের সমষ্টি বা অনেকটা কনফেডারেশন, যার নাম রোমান রিপাবলিক ছিল। সিনেটর বা প্রতিনিধিদের পরামর্শে চলত রোমের শাসন। সেই যুগকে বলা হয় রোমের রিপাবলিকান অর্থাৎ প্রজাতন্ত্রের যুগ। অবশ্য কালক্রমে রোম প্রজাতন্ত্র রূপ নিল রাজতন্ত্রে। রোমে প্রজাতন্ত্রের স্থায়িত্বকাল ছিল প্রায় পাঁচশ বছর, আর রাজতন্ত্র বিরাজমান ছিল পরবর্তী পনেরশ বছর। সব মিলিয়ে এই দুই সহস্রাব্দে মানব ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান জুড়ে ছিল রোমান সাম্রাজ্য, যার ফলাফল এই আধুনিক যুগে এখনও রয়ে গেছে।
ক্রমবিকাশ ও ব্যাপ্তি
বর্তমান ইতালিতে উৎপত্তি লাভ করে রোমান রিপাবলিকের ব্যপ্তি কালক্রমে ভূমধ্যসাগরের ওপারে উত্তর আফ্রিকায় ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমান সময়ের মরক্কো ও আলেজিয়ার উত্তর উপকূল রোমান সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। শত শত যুদ্ধ বিগ্রহ, অভ্যুত্থান, পাল্টা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সমৃদ্ধির দিকে ক্রমে এগিয়ে যেতে থাকে রোমান রিপাবলিক। তবে যুগে যুগে ডিক্টেটরদের আবির্ভাব ঘটতে থাকে প্রজাতন্ত্রে। যদিও জুলিয়াস সিজারের জন্ম রোমান রিপাবলিক জামানায়, তিনি রোমের অত্যন্ত পরাক্রমশালী ডিক্টেটর হিসাবে আবির্ভূত হন। তিনি সমৃদ্ধশালী মিশর জয় করেন আর মিশরের রানী ক্লিওপেট্রার সাথে তার প্রণয়ের কাহিনী তো সর্বজনবিদিত। তার সময়ে রোমানরা পরিণত হয়েছিল মেডিটেরিয়ান তথা ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের একচ্ছত্র অধিপতিতে
জুলিয়াস সিজারের মৃত্যুর পর তার পালক পুত্র অগাস্টাস সিজার রোমের সিংহাসনে বসেন। তিনি রিপাবলিকানপন্থীদের চূড়ান্তভাবে পরাজিত করেন রোম প্রজাতন্ত্রের চিরতরে বিলুপ্তি ঘোষণা করেন এবং প্রতিষ্ঠা করেন রোমান সাম্রাজ্যের। তাই বলা হয় রোমান সাম্রাজ্যের প্রথম সম্রাট ছিলেন অগাস্টাস সিজার। অগাস্টাস সিজার নিজের নামানুসারেই তার জন্মমাস আগস্টের নামকরণ করেছিলেন। উল্লেখ্য তার পালক পিতার জুলিয়াস সিজার নিজের নামে নামকরণ করেছিলেন নিজের জন্মমাস জুলাইয়ের নাম।
শুধু তা-ই নয়, ফেব্রুয়ারী মাস ২৮ দিনে হওয়ার পেছনের কাহিনীটাও সিজারদের সাথে জড়িয়ে আছে। জুলাই মাস ছিল ৩১ দিনে, কিন্তু আগস্ট ছিল ৩০ দিনের। যেহেতু অগাস্টাস জুলিয়াসের চেয়ে কোনো অংশেই কম নন, তিনি ফেব্রুয়ারী মাস থেকে একদিন কেটে আগস্টের সাথে অতিরিক্ত একদিন যোগ করে সেটা ৩১ দিনের বানালেন! রাজায় রাজায় মানরক্ষার যুদ্ধে ক্রসফায়ারে পড়ে বেচারা ফেব্রুয়ারী এখন ২৮ দিনের মাস!
রোমানদের ধর্ম
রোমানরা প্রাথমিক যুগে অর্থাৎ প্রথম আটশ বছর ছিল প্যাগান অর্থাৎ পৌত্তলিক। রোমানদের প্রধান দেবতার নাম ছিল জুপিটার। এদিকে ফিলিস্তিনে যীশু খ্রিস্টের জন্মের সময় রোমের ক্ষমতায় ছিলেন অগাস্টাস সিজার। ভৌগলিকভাবে মিশরের অদূরে ফিলিস্তিনের অবস্থান। তাই ঐতিহাসিকভাবে মিশর ও ফিলিস্তিন একই সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল ইতিহাসের অধিকাংশ সময়।
শুরুতে খ্রিস্টধর্মের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসাবে আবির্ভূত হয় রোম। কেননা যীশু খ্রিস্টের একত্ববাদের শিক্ষা ছিল রোমান বহু ঈশ্বরবাদের সাথে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক। এছাড়া তাঁর প্রচারিত সাম্য ও ইনসাফের শিক্ষা ভোগবাদে বিশ্বাসী অত্যাচারী রোমান সাম্রাজ্যের মসনদ কাঁপিয়ে দিয়েছিল। তাই প্রাথমিক যুগের খ্রিস্টানদের উপর অমানুষিক অত্যাচার করতে থাকে রোমানরা। কিন্তু তা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় হতে থাকে যীশু খ্রিস্টের প্রচারিত ধর্ম।
এক সময়ে সর্বস্তরে এমনকি উচ্চ পর্যায়েও খ্রিস্টধর্ম প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে। এরকম পরিস্থিতিতে খ্রিস্টীয় চতুর্থ শতকের শুরুর দিকে রোমান সম্রাট কন্সটানটাইন নিজে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তিনিই প্রথম রাষ্ট্রীয়ভাবে খ্রিস্টধর্মের প্রতি সহনশীলতা প্রদর্শনে নির্দেশ জারি করেন। তবে খ্রিস্টধর্মকে রোমের একমাত্র বৈধ রাজধর্মের মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল আরও ৭০ বছর পরে সম্রাট থিওডোসিয়াসের সময়। পরবর্তী এক হাজার বছর খ্রিস্টধর্মের রক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় এই রোমানরাই। রোম হয়ে ওঠে খ্রিস্টধর্মের সমার্থক! আজও ভ্যাটিকান চার্চের অবস্থানও কিন্তু রোমের ভেতরেই এবং অধিকাংশ খ্রিস্টানই রোমান ক্যাথলিক।
ইস্টার্ণ ও ওয়েস্টার্ণ রোমান এম্পায়ার
খ্রিস্টীয় তৃতীয় শতকে রোমান সাম্রাজ্যের ব্যাপ্তি বিশাল আকার ধারণ করে। তাই ২৮৫ খ্রিস্টাব্দে শাসনকার্যে সুবিধার জন্য রোমান সম্রাট ডায়োক্লেটিয়ান সাম্রাজ্যকে ইস্টার্ণ ও ওয়েস্টার্ণ এম্পায়ারে বিভক্ত করেন। ওয়েস্টার্ণ এম্পায়ারের রাজধানী প্রাচীন রোমেই বহাল রাখা হয়। আর ইস্টার্ণ জোনের রাজধানী ঘোষণা করা হয় বর্তমান তুরস্কের বাইজান্টিয়ামে। তাই নব্য প্রতিষ্ঠিত ইস্টার্ণ এম্পায়ারটি রাজধানীর নামানুসারে বাইজানটাইন এম্পায়ার নামে পরিচিতি লাভ করে।
তবে পুরাতন শহর বাইজন্টিয়ামের অদূরেই আরেকটি অধিক সুরক্ষিত প্রশাসনিক নগর স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে সম্রাট কন্সটানটাইন ৩৩০ খ্রিস্টাব্দে কন্সটানটিনোপল শহরের গোড়াপত্তন করেন। এদিকে বিভক্ত হওয়ার দুই শতাব্দীর মধ্যেই মধ্যে ওয়েস্টার্ণ রোমান এম্পায়ার হান, গথ ও ভ্যান্ডালদের মুহুর্মুহু আক্রমণের শিকার হয়ে ক্রমাগত দুর্বল হতে থাকে। রোমানদের কাছে এরা পরিচিত ছিল দ্যা বার্বারিয়ান নামে। বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত বর্বর শব্দটি রোমান থেকে আগত ইংরেজি শব্দ বার্বারিয়ানেরই বাংলা সংস্করণ।
বার্বারিয়ানদের লুটতরাজের মুখে বিলীন হতে থাকে রোমের শান শওকত। অবশেষে ৪৭৬ খ্রিস্টাব্দে বিলুপ্ত হয়ে যায় ওয়েস্টার্ণ রোমান এম্পায়ার। তখন থেকেই রোমান সাম্রাজ্য বলতে বোঝাত শুধু বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যকে, যার রাজধানী ছিল কন্সটানটিনোপলে। অর্থাৎ রোমের অধিবাসী না হয়েও রোমান সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারক-বাহক হওয়ায় বাইজান্টাইনরা রোমান হিসাবে পরিচিত ছিল। বাইজান্টাইন এম্পায়ার খুব অল্প সময়ের মধ্যে সমৃদ্ধির শিখরে পৌঁছে গেল। রাজ্য বিস্তার নিয়ে তাদের ঘোর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল তখনকার পারস্য সাম্রাজ্য। ইসলাম আগমনের আগে প্রায় দুই শতাব্দী একে অপরের সাথে তুমুল যুদ্ধে লিপ্ত ছিল বাইজান্টাইন রোমান ও পারসিয়ানরা।
রোমান তথা বাইজান্টাইনদের সমাপ্তি
পঞ্চদশ শতকে ক্ষীয়মাণ রোমান তথা বাইজান্টাইন সাম্রাজ্য শুধু কন্সটান্টিনোপোল নগরের মধ্যে আবদ্ধ হয়ে পড়ে। ১৪৫৩ সালে তাদের উপর চূড়ান্ত আঘাতটি হানেন ওসমানীয় সুলতান মুহম্মদ বিন ফতেহ। ধর্মপ্রাণ ওসমানীয়রা কন্সটানটিনোপলের নাম বদলে নাম রাখেন ইসলামবুল, যা পরবর্তীতে তুরস্কের সেক্যুলারাইজেশনের সময় গ্রীককরণ করে ইস্তানবুল হিসাবে লিখা হয়। এখন ইস্তানবুল নামেই পরিচিত কন্সটানটিনোপল।
এক কালের পরাক্রমশালী রোমানরা আজ নেই, কিন্তু রয়ে গেছে তাদের কীর্তি, রয়ে গেছে তাদের চিহ্ন। স্থানিক, কালিক এবং ঐতিহাসিকভাবে রোমান সভ্যতার বিস্তৃতি ও প্রভাব এতটাই যে, এর উপর কয়েক লক্ষ বই প্রকাশিত হওয়ার পরও পুরোপুরি বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়েছে বলা যাবে না। এখনও ঐতিহাসিকদের কাছে গবেষণার অত্যন্ত প্রিয় বিষয় রোমানরা। তাই ফিচারটিকে রোমানদের সেই বিশাল সিন্ধু থেকে বিন্দু তুলে আনার ছোট্ট প্রয়াস বললেও ভুল হবে না।
তথ্যসূত্র:

অসিত বরণ গড়াই


অসিত বরণ গড়াই

ফেসবুক থেকে        শেয়ার করেছেন            প্রণব কুমার কুণ্ডু

প্রণব কুমার কুণ্ডু










Asit Baran Gorai তার প্রোফাইল ছবি আপডেট করেছেন৷


গান্ধি


গান্ধি

ফেসবুক থেকে          শেয়ার করেছেন       প্রণব কুমার কুণ্ডু


প্রণব কুমার কুণ্ডু








কেনো আমি গান্ধীকে ঘৃণা করি ? - ১

মানুষ মূল্যায়িত হয় তার কথা ও কাজের গুণেই। তাই গান্ধী যা করে গেছে এবং বলে গেছে, সেই মতোই তাকে মূল্যায়ন করতে হবে। এই পোস্টে আমি তার সেই মূল্যায়ন করবো এবং এই পোস্ট পড়া শেষে আপনারাও নিশ্চয় বুঝতে পারবেন যে শুধু আমি নই, এখন কোটি কোটি মানুষ কেনো গান্ধীকে ঘৃণা করছে ?
শুরুতেই নজর দেওয়া যাক গান্ধীর শিক্ষা-দীক্ষায়। ছোটবেলা থেকেই শুনতাম গান্ধী ব্যারিস্টার, ভাবতাম নিশ্চয় অনেক শিক্ষিত, অনেক জ্ঞানী। কিন্তু পরে যা জেনেছি, তা জেনে শুধু আমিই অবাক হই নি, জানলে অবাক হবেন আপনারাও। গান্ধী তার সমগ্র জীবনে মাত্র একটি সার্টিফিকেট অর্জন করতে পেরেছিলো, আর তা হলো ম্যাট্রিক পাসের সার্টিফিকেট, ১৮৮৭ সালে গান্ধী টেনে টুনে কোনোভাবে থার্ড ডিভিশনে ম্যাট্রিক পাশ করে, তার প্রা্প্ত নম্বর ছিলো ২৪৭ আউট অফ ৬০০। এখন ব্যারিস্টারি রহস্যের কথা শুনুন, তখনকার দিনে ব্যারিস্টার হতে গেলে কোনো পরীক্ষা দিতে হতো না, কিছুদিন কোনো বয়স্ক বা অভিজ্ঞ ব্যারিস্টারের সহকারী হিসেবে কাজ করলেই ব্যারিস্টার হিসেবে বার এসোসিয়েসনের সদস্য হওয়া যেতো। কিন্তু এই সহকারী হওয়ার জন্যও গান্ধীর ভারতীয় সার্টিফিকেট এবং তার ফলাফল গ্রহনযোগ্য বলে বিবেচিত হয় নি, তাই গান্ধীকে আবারও লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাট্রিক পরীক্ষায় বসতে হয়। প্রথম বার ফেল করে দ্বিতীয় বার কোনোমতে গান্ধী সে পরীক্ষায় পাশ করে এবং ব্যারিস্টারের সহকারী হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে। আগের দিনের অনেক মানুষেরই প্রথাগত শিক্ষা খুব বেশি ছিলো না, যেমন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর; কিন্তু তারা ছিলো স্বশিক্ষায় শিক্ষিত, কিন্তু গান্ধীর কথা ও আচরণে এটাও স্পষ্ট হয় যে তার মধ্যে সেই স্বশিক্ষাও ছিলো না। কারণ, গান্ধীর বেশির ভাগ কথা বার্তা ই ছিলো ননসেন্স। পুরো পোস্ট পড়ার পর, আপনারা আমার এই কথার মর্ম বুঝতে পারবেন।
গান্ধী, হিন্দুদের প্রাণের গ্রন্থ গীতা সম্পর্কে তার ‘অনাশক্তি যোগ’ গ্রন্থের ভূমিকায় লিখেছে, “গীতার বর্ণিত যুদ্ধ কোনো বাস্তব যুদ্ধ নয়, পরন্তু ভৌতিক যুদ্ধ বর্ণনের রূপকের মাধ্যমে প্রত্যেক মানুষের হৃদয়ে যে দ্বন্দ্বযুদ্ধ নিরন্তর চলিতেছে, ইহাতে তাহাই বর্ণিত হইয়াছে। রসস্থিত যুদ্ধকে রসপূর্ণ আকার দেওয়া হইয়াছে।” এর সরল মানে হলো, মহভারতের যুদ্ধ কোনো বাস্তব ঘটনা নয়, মানুষের মনে শুভ অশুভ শক্তির মধ্যে যে অবিরাম যুদ্ধ চলছে এটা তার রূপক মাত্র।
গান্ধী, তার ‘গীতাবোধ’ গ্রন্থের প্রস্তাবনায় আরো বলেছে, “মহাভারতকে ঐতিহাসিক গ্রন্থ বলিয়া ধরা হয়, কিন্তু আমার কাছে মহাভারত ও রামায়ণ ঐতিহাসিক কোনো গ্রন্থ নয়। ইহারা ধর্মগ্রন্থ। আর যদি ইতিহাস বল, তবে উহারা আত্মার ইতিহাস। হাজার হাজার বৎসর পূর্বে কী হইয়াছিলো তাহার বর্ণনা উহাতে নাই, পরন্তু আজ প্রত্যেক মানুষের অন্তরে যাহা চলিতেছে, উহা তাহারই প্রতিচ্ছবি।”
হিন্দু ধর্মের প্রাণপুরুষ শ্রীকৃষ্ণ সম্পর্কে গান্ধী বলেছে, “গীতার কৃষ্ণ মূর্তিমস্ত শুদ্ধ পূর্ণজ্ঞান, কিন্তু কাল্পনিক। ইহাতে কৃষ্ণ নামক অবতার পুরুষকে অস্বীকার করা হইতেছে না। মাত্র বলা হইতেছে পূর্ণকৃষ্ণ কাল্পনিক। পূর্ণ অবতারের কল্পনা পরে আরোপিত হইয়াছে।”
এই হলো হিন্দুধর্ম সম্পর্কে গান্ধীর জ্ঞান বা ধারণা, এখন আপনিই বলেন- এ শ্রদ্ধার যোগ্য, না ঘৃনার যোগ্য ?
গান্ধী বলতো, “একজন সত্যাগ্রহী সব সময় আক্রমনকারীর দ্বারা নিহত হবার কামনা করবে, কিন্তু কাউকে হত্যা করার কামনা করবে না।” এটা কি কোনো মানুষের কথা হতে পারে ? পৃথিবীর একটি ছোট্ট বা ক্ষুদ্র প্রাণীও তো তার আত্মরক্ষার জন্য যুদ্ধ করে এবং টিকে থাকার চেষ্টা করে। গান্ধীর এই নীতির ফলে ভারত ভাগের আগে ও পরে, পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে যে লক্ষ লক্ষ হিন্দু, হত্যার শিকার হয়েছে, তা রোধ করার জন্য গান্ধী তো কোনো পদক্ষেপ নেয় ই নি, উপরন্তু হিন্দুদেরকে মরতে সে উৎসাহিত করেছে; পুরো পোস্ট পড়তে পড়তে আপনারা এর বহু প্রমান পাবেন।
বসন্তের টিকা দেওয়াকে গান্ধী পাপ বলে মনে করতো। এর মূল কারণ হলো, গান্ধী ছিলো পাশ্চাত্য চিকিৎসার পদ্ধতির বিরোধী; কারণ, সে ইনজেকশন দেওয়া্ ও অপারেশন করাকে হিংসা বলে মনে করতো। ১৯৪৬ সালে গান্ধীর স্ত্রী কস্তরবার ম্যালেরিয়া হয় এবং ডাক্তার তাকে পেনিসিলিন ইনজেকশন দেবার কথা বলে। সেই মত বৃটিশ সরকার তার জন্য লন্ডন থেকে পেনিসিলিন ইনজেকশন নিয়ে আসে। কিন্তু গান্ধী হিংসার নাম করে তা প্রয়োগ করতে বাধা দেয়। ফলে গান্ধীর স্ত্রী মারা যায়। অথচ ১৯২২ সালে কারাবাসের সময় গান্ধীর খুব আমাশা হয় এবং ডাক্তার তাকে নিয়মিত ইনজেকশন করে সুস্থ করে তোলে এরপর গান্ধীর এ্যাপেনডিসাইটিস হয়, গান্ধী সেই অপারেশনও করায়।গান্ধী ছিলো এমনই ভণ্ড।
গান্ধী আরো মনে করতো, উচ্চ বর্ণের লোকেরা নিম্নবর্ণের লোকেদের ঘৃণা করে যে পাপ করে তার ফলে ভূমিকম্প হয়; এই অপদার্থটা ছিলো এমনই কুসংস্কারাচ্ছন্ন। নেতাজী বলেছেন, “বৃটিশের নির্দেশে গান্ধী যখনই কোনো আন্দোলন তুলে নিতেন, তখনই তিনি নিজের শয়তানিকে চাপা দেওয়ার জন্য বা দেশের মানুষের দৃষ্টিকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য অনশন শুরু করতেন।” কারণ গান্ধীর সকল প্রকার অনশন ও কারাবাস ছিলো বৃটিশদের পরিকল্পনার অংশ।
ড. আম্বেদকরের মতে, গান্ধী ছিলো শক্তের ভক্ত নরমের যম। দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকাকালে একবার গান্ধী হিন্দু, খ্রিষ্টান ও ইসলামের মধ্যে তুলনা করে একটি বক্তৃতা দেয়, সেই বক্তব্যে মুসলমানরা ক্ষুব্ধ হয় এবং ১৯০৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি, কয়েকজন মুসলমান তার উপর হামলা করে এবং আচ্ছা মতো মার দেয়। এরপর থেকেই গান্ধী মুসলমানদের সর্বপ্রকার সমালোচনা করা বন্ধ করে দেয় এবং তারপর থেকে সে মুসলমানদের অত্যন্ত গর্হিত অপরাধকেও সে আর অপরাধ বলেই মনে করতো না।
১৯৩৯ সালের নভেম্বর মাসে সিন্ধু প্রদেশের মুসলমানরা হিন্দুদের উপর আক্রমন চালায়। গান্ধী আক্রান্ত হিন্দুদেরকে অহিংসা করতে বলে এবং আক্রমনকারী মুসলমানদের ব্যাপারে চুপ থাকে। একসময় গান্ধী, বঙ্কিমচন্দ্রের বন্দেমাতরম গানের খুব ভক্ত ছিলো এবং এর প্রশংসা করে সে লিখেছিলো, “এর আবেদন অনেক মহৎ এবং অন্যান্য দেশের জাতীয় সঙ্গীতের তুলনায় তা শুনতেও অনেক সুমধুর। অনেক দেশের জাতীয় সঙ্গীতের মধ্যে অন্যান্য দেশকে কটাক্ষ করা হয় এবং নিন্দাসূচক বাক্য ব্যবহার কর হয়। কিন্তু বন্দেমাতরম এই সব দোষ থেকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত। এর একমাত্র উদ্দেশ্য আমাদের মধ্যে দেশাত্মবোধ জাগ্রত করা।” কিন্তু পরবর্তীকালে গান্ধী যখন বুঝতে পারে যে, মুসলমানরা এই গান পছন্দ করে না, তখন সে বন্দেমাতরম গাওয়া ও আবৃত্তি করা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেয় এবং তার আপত্তির কারণেই ‘বন্দেমাতরম’ ভারতের জাতীয় সঙ্গীত হতে পারে নি।
১৯৩১ সালে কংগ্রেস কমিটি ভারতের জাতীয় পতাকা গেরুয়া করার প্রস্তাব দেয়, কিন্তু গান্ধীর ইচ্ছায় তা হয় তিরঙ্গা । তারপরও গান্ধী পরে ভারতের এই জাতীয় পতাকাকেও সেভাবে সম্মান দেয় নি, কারণ গান্ধী বুঝতে পেরেছিলো যে, এই পতাকা মুসলমানরা পছন্দ করে না। এ ব্যাপারে একটি ঘটনা, নাথুরা গডসে, তার গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এইভাবে, “১৯৪৬ সালে কলকতা ও নোয়াখালিতে হিন্দুদের গণহত্যার ঠিক পরে গান্ধী যখন নোয়াখালি ও ত্রিপুরা ভ্রমন করছিলো, তখন নোয়াখালিতে তার সাময়িক বাসগৃহের মাথায় স্থানীয় কংগ্রেস কর্মীরা তিরঙ্গা পতাকা লাগিয়ে দিয়েছিলো। কিন্ত যেই মাত্র একজন সামান্য পথচারী মুসলমান গান্ধীর সাথে দেখা করে ওই পতাকার ব্যাপারে আপত্তি জানায়, গান্ধী তৎক্ষণাৎ তা নামিয়ে ফেলার হুকুম দেয়। লক্ষ লক্ষ কংগ্রেস কর্মীর শ্রদ্ধার কেন্দ্র বিন্দু যে জাতীয় পতাকা, সেই পতাকাকে এক মিনিটের মধ্যে গান্ধী অপমানিত ও লাঞ্ছিত করে, কারণ একজন অশিক্ষিত গ্রাম্য মুসলমান তাতে খুশি হবে।”
হিন্দুদের চাপে, নেহেরু, সরকার গঠনের পরেই সোমনাথ মন্দির পুননির্মানের সিদ্ধান্ত নেয় ; অথচ মন্ত্রীসভার সদস্য না হয়েও গান্ধী নেহেরুকে এই সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করে। নেহেরুর উপর গান্ধীর এই প্রভাব ছিলো, যেহেতু সর্দার প্যাটেল, অধিকাংশের সমর্থনে প্রথম প্রধা্ন মন্ত্রী নির্বাচিত হওয়া সত্ত্বেও, গান্ধী তার নিজের ক্ষমতা বলে নেহেরুকে প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছিলো। অন্যদিকে, একই সময়ে ১৩ই জানুয়ারী, ১৯৪৮ এ অনশন করে গান্ধী দিল্লীর মসজিদ পুননির্মান করে দিতে সরকারকে বাধ্য করে।
গান্ধী প্রথমে হিন্দি ভাষারও খুব ভক্ত ছিলো এবং সে বলতো যে, হিন্দি ভাষাই সর্বভারতীয় ভাষা হবার উপযুক্ত। কিন্তু পরে মুসলমানদের খুশি করার জন্য সে ‘হিন্দুস্থানী’ নামের আড়ালে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবী করেছিলো।
ইংরেজদের বিরোধিতা করে সন্ত্রাসমূলক কাজ করার জন্য বৃটিশ সরকার- ভগত সিং, রাজগুরু ও শুকদেব এর মৃত্যুদণ্ড দেয়। কিন্তু সারা ভারতের লোকজন চেয়েছিল গান্ধী হস্তক্ষেপ করে এদের মৃত্যুদণ্ড রোধ করুক, কিন্তু গান্ধী তা না করার জন্য জেদ ধরে থাকে এবং বলে, “ওরা পথভ্রষ্ট, ওদের পথ হিংসার।” শুধু তাই নয়, মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলো ব’লে- রাণা প্রতাপ, গুরু গোবিন্দ সিং, রাজা রণজিত সিংহ ও রাজা শিবাজীর নিন্দা করে গান্ধী বলেছিলো, “তারা ছিলেন লক্ষ্যভ্রষ্ট দেশপ্রেমিক।” এই মন্তব্যের ফলে শিবাজীর ভক্ত মারাঠারা বেশ ক্ষেপে গিয়েছিলো পরে গান্ধীর হয়ে নেহেরু ক্ষমা চেয়ে তাদেরকে শান্ত করে।
স্বামী শ্রদ্ধানন্দ ছিলেন ‘আর্য সমাজ’ এর একজন প্রচারক এবং তিনি ধর্মান্তরিত ভারতীয় হিন্দুদেরকে পুনরায় হিন্দুধর্মে ফিরিয়ে আনার জন্য একটি শুদ্ধিযজ্ঞ চালু করেছিলেন। কিন্তু তার এই প্রচেষ্টার জন্য তিনি মুসলমানদের বিরাগভাজন হন। একটি ঘটনায়, এক মুসলিম মহিলা তার দুই সন্তানসহ স্বামী শ্রদ্ধানন্দের শরণাপন্ন হয় এবং তাদেরকে হিন্দুধর্মে ফিরিয়ে আনতে বলে। কিন্তু মহিলাটির স্বামী এই অভিযোগে আদালতে মামলা করে যে, শ্রদ্ধানন্দ তার স্ত্রী সন্তানকে অপহরণ করেছে। কিন্তু আদালত তার এই মামলা খারিজ করে শ্রদ্ধানন্দকে মুক্তি দেয়। এর ফলে মুসলিমরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং কয়েকদিনের মধ্যেই ঐ মহিলার স্বামী আবদুল রসিদ শ্রদ্ধানন্দকে হত্যা করে, এই হত্যাকাণ্ড ঘটে ১৯২৬ সালের ২৩ ডিসেম্বর।
এই হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন পরেই আসামের গৌহাটিতে জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হয়। শ্রদ্ধানন্দের মৃত্যুতে পরিবেশ খুবই শোকাহত ছিলো। কিন্তু গান্ধী বক্তৃতা করতে উঠেই সেই খুনীকে ‘ভাই আব্দুল রসিদ’ বলে সম্বোধন করে বক্তৃতা শুরু করে, উপস্থিত সবাই তো বিস্ময়ে হতবাক। কিন্তু সেসবের কোনো তোয়াক্কা না করে গান্ধী তার বক্তৃতা চালিয়ে যেতে থাকে এবং বলে, এখন হয়তো আপনারা বুঝতে পারছেন যে, কেনো আমি আব্দুল রসিদকে ‘ভাই আব্দুল রসিদ’ বলেছি এবং আমি বারবার ঐ কথাই বলবো। আমি একথাও বলবো না যে, আব্দুল রসিদ স্বামী শ্রদ্ধানন্দকে খুন করার অপরাধে অপরাধী। প্রকৃত অপরাধী হলো তারা, যারা মানুষের মনে ঘৃণা জাগিয়ে তোলে।’ এর মাধ্যমে গান্ধী বুঝিয়ে দেয় যে স্বামী শ্রদ্ধানন্দ নিজেই তার মৃত্যুর জন্য দায়ী। এরপর শ্রদ্ধানন্দের শোকবার্তায় গান্ধী লিখে, স্বামী শ্রদ্ধানন্দ সম্পর্কে আমি একটি কথা ই বলবো যে, তিনি বীরের জীবন যাপন করেছেন এবং বীরের মৃত্যু বরণ করেছেন।” এর মাধ্যমে গান্ধী বোঝালো যে, কোনো মুসলমানের হাতে কোনো হিন্দু খুন হলে হিন্দুদের উচিত সেই মৃত্যুকে বীরের মত মৃত্যুবরণ বলে মনে করা।
গান্ধীর এই নীতি, পরবর্তীতে হিন্দুদের জীবন যে কিভাবে বিষময় করে তুলেছিলো সেটা বুঝতে পারবেন, দেশভাগের পূর্ব ও পরের আরো কয়েকটি ঘটনা জানলে-
দেশ ভাগের কয়েক মাস আগে থেকে যখন পশ্চিম পাঞ্জাবের হিন্দুরা উদ্বাস্তু হয়ে পূর্ব পাঞ্জাবে ও দিল্লিতে আসতে শুরু করে, তখন গান্ধী সেই সব বিপন্ন হিন্দুদের উদ্দেশ্যে ১৯৪৭ সালের ৬ এপ্রিল এক ভাষণে বলে, “মুসলমানরা যদি হিন্দুদের অস্তিত্বকেও বিপন্ন করে তোলে, তবুও হিন্দুদের কখনোই উচিত হবে না মুসলমানদের প্রতি ক্রোধ প্রকাশ করা। যদি তারা আমাদের সবাইকে তরোয়াল দিয়ে কেটে ফেলে, তবে আমাদের উচিত হবে বীরের মতো সেই মৃত্যুকে বরণ করা।… আমাদের জন্ম মৃত্যু তো ভাগ্যের লিখন, তাই এ ব্যাপারে এত মন খারাপের কী আছে ?”
১৯৪৬ সালের ২৩ নভেম্বরের এক ভাষণে গন্ধী আরো বলে, “রাওয়াল পিণ্ডি থেকে যেসব লোকেরা পালিয়ে এসেছে, তাদের মধ্যে কিছু লোক আমার সাথে দেখা করে জিজ্ঞেস করলো, যে সমস্ত হিন্দু এখনও পাকিস্তানে পড়ে রয়েছে, তাদের কী হবে ? আমি তাদেরকে প্রশ্ন করলাম, তোমরা কেনো দিল্লিতে চলে এসেছো ? কেনো তোমরা সেখানে মরে গেলে না ? আমি এখনও বিশ্বাস করি যে, আমরা যেখানে বসবাস করছি, সে স্থান আমাদের কখনো ত্যাগ করা উচিত নয়। এমনকি সেখানকার লোকেদের কাছ থেকে নিষ্ঠুর ব্যবহার পেলে বা মৃত্যু নিশ্চিত হলেও না। যদি সেই লোকেরা আমাদেরকে হত্যা করে, তবে যাও, মুখে ভগবানের নাম নিতে নিতে তাদের হাতে বীরের মৃত্যু বরণ করো। যদি আমাদের লোকেদের হত্যা করা হয়, তবে কেনো আমরা অন্য কারো ওপর ক্রুদ্ধ হবো ? যদি তাদের হত্যা করা হয় তবে বুঝে নিতে হবে যে, তারা আকাঙ্ক্ষিত উত্তম গতিই লাভ করেছে।”
গান্ধী এ ব্যাপারে আরো বলে- যা নাথুরাম গডসে তার গ্রন্থে উল্লেখ করেছে- “যাদের হত্যা করা হয়েছে, তারা যদি সাহসের সাথে মৃত্যু বরণ করে থাকে, তবে তারা কিছুই হারায় নি, বরং কিছু অর্জন করেছে।… মৃত্যুর জন্য তাদের ভীত হওয়া উচিত নয়। প্রকৃতপক্ষে যারা হত্যা করেছে, তারা তো আমাদেরই ভাই ছাড়া আর কেউ নয়, তারা আমাদেরই মুসলমান ভাই।”
‘ফ্রিডম এ্যাট মিডনাইট’ গ্রন্থের ৩৮৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, পশ্চিম পাকিস্তান থেকে উদ্বাস্তু হয়ে আসা কয়েকজন হিন্দু গান্ধীর সাথে দেখা করলে গান্ধী তাদেরকে আবার পশ্চিম পাকিস্তানে ফিরে যাবার পরামর্শ দেয়, যদিও তাদের ফিরে যাবার অর্থ ছিলো নিশ্চিত মৃত্যু। গান্ধী তাদেরকে বলে, “একটি মুসলমানকেও হত্যা না করে শেষ মানুষটি পর্যন্ত সমস্ত পাঞ্জাবী যদি হিন্দু যদি মৃত্যুবরণ করে, তবে পাঞ্জাব অমর হবে, তোমরা যাও এবং অহিংসার স্বার্থে স্বেচ্ছাকৃত বলি হও।” এই সময় হিন্দু শরণার্থীরা পাকিস্তান থেকে বিতাড়িত হয়ে সাময়িক ভাবে দিল্লি কিছু মসজিদে আশ্রয় নেয়, কিন্তু ভারতের মুসলমানরা আপত্তি জানালে গান্ধী সমস্ত শরনার্থীদেরকে শিশু স্ত্রীলোক সহ রাস্তায় থাকতে বাধ্য করে। গান্ধী তার অহিংসা নীতিকে বোঝাবার জন্য ১৯২৬ সালের ৬ জুলাই নবজীবন পত্রিকায় গান্ধী লিখেছিলো যে, “কোনো মুসলমান যদি ঘরে ঢুকে আমার বোনকে ধর্ষণ করে আমি সেই ধর্ষনকারীর পায়ে চুমু খাবো।” গান্ধী এই হিজড়া মনোভাবের ফলে কিভাবে হিন্দু মেয়েরা মুসলমানদের হাতে নির্যাতিত হয়েছে, তা বুঝতে পারবেন নিচের এই ঘটনাগুলোতে-
ফ্রিডম এ্যাট মিডনাইট’ গ্রন্থের ৪৭৯ পৃষ্ঠায় আরো উল্লেখ আছে, দেশভাগের প্রাক্কালে পাঞ্জাবের মেয়েরা যখন মুসলমানদের হাতে ধর্ষিতা হচ্ছিলো, তখন গান্ধী তাদের উদ্দেশ্যে পরামর্শ দিয়েছিলো, “কোনো মুসলমান কোনো মহিলাকে ধর্ষণ করতে চাইলে, তারা কখনোই সেই মুসলমানকে বাধা দেবে না, বরং তার সাথে সহযোগিতা করবে। সেই মহিলার তখন উচিত হবে দুই দাঁতের মধ্যে জিভ কামড়ে মরার মতো শুয়ে থাকা।”
১৯৪৬ সালে নোয়াখালিতে হিন্দু হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের সময় এ সম্পর্কে গান্ধী যেসব কথাবার্তা বলেছে, তা শুনলেও যে কোনো সুস্থ বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের বমি আসবে। নিচে সেগুলোর কিছু বর্ণনা দিচ্ছি-
নোয়াখালির হিন্দুদেরকে, মুসলমানদের এই বর্বরতা থেকে রক্ষা করার জন্য ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি ও অন্যান্য শুভ বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের পক্ষ থেকে গান্ধীর কাছে আবেদন জানানো হয়েছিলো, কিন্ত গান্ধী প্রথমে নোয়াখালি আসতেই রাজী হয় নি; কারণ, নোয়াখালি এসে তার কর্তব্য কর্ম কী হবে, সেই বিষয়ে ঈশ্বর নাকি তাকে কোনো নির্দেশ দেয় নি ! তাই মুসলমানদের আক্রমনে নিপীড়িত হিন্দুদের প্রতি সমবেদনা এবং দুঃখ জানিয়েই সে তার কর্তব্যকর্ম শেষ করে। দিল্লিতে বসে গান্ধী যে বিবৃতি দেয়, ১৭ অক্টোবর, কোলকাতা থেকে প্রকাশিত অমৃতবাজার পত্রিকা তা ছাপিয়েছিলো। বিবৃতির বক্তব্য একরম : "নোয়াখালির সংবাদ আমি শুনেছি, শুনেছি কলকাতার রক্তস্নানের কথাও; কিন্তু আমি খুঁজছি, এই মূহুর্তে আমার কর্তব্য কর্ম কী ? নিশ্চয় ঈশ্বর আমাকে পথ দেখাবে।"
শুধু তাই নয়, হিন্দুদের উপর এই আক্রমনের জন্য মুসলিম লীগ বা আক্রমনে মদত দেওয়ার জন্য সুরাবর্দীর সাম্প্রদায়িক প্রশাসন সম্পর্কেও গান্ধী কোনো মন্তব্য করতে রাজী হয় নি; এ সম্পর্কে প্রশ্ন করলে গান্ধী বলেছিলো, "২৩ অক্টোবর দিল্লিতে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির যে সভা বসবে তার আগে আমি মুখ খুলবো না।" পাপাত্মা গান্ধী, নোয়াখালির হিন্দুদের, মুসলমানদের অত্যাচারের হাত থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার এক অসাধারণ অহিংস পথের সন্ধান দিয়েছিলো। এই নপুংসক, মুসলমানদের সশস্ত্র আক্রমনে ক্ষত বিক্ষত ও মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হিন্দুদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছিলো, "তারা (হিন্দুরা) যেন কখনোই অসহায়ভাবে মৃত্যু বরণ না করে। বরং তাদের উচিত একটিও শব্দ না করে হত্যাকারীদের তরবারির দিকে মাথা এগিয়ে দেওয়া, তাহলেই দাঙ্গা থেমে যাবে।"
শুধু এখানেই শেষ নয়, এই পাপাত্মা, ধর্ষিতা বা অপহৃতা নোয়াখালির মেয়েদের উদ্দেশ্যে বলেছিলো, "তারা যেন তাদের অত্যাচারীদের বাধা না দেয়; কারণ, মেয়েদের জানা উচিত কিভাবে মৃত্যু বরণ করতে হয়। সুতরাং খুব সাহসের সাথে মৃত্যুর মুখোমুখী দাঁড়াতে হবে এবং এর জন্য একটুও শোক করা উচিত নয়; কেবলমাত্র তাহলেই তাদের উপর এই অত্যাচার (ধর্ষণ ও অপহরণ) বন্ধ হবে।" আমার খুব জানতে ইচ্ছা করে গান্ধীর প্রকৃত জন্মদাতা কে ? সে কোনো মানুষ , না অন্য কোনো জানোয়ার ? গান্ধীকে এখন আমার হিজড়া বলে গালি দিতেও খারাপ লাগে। কারণ, এতে প্রকৃতির খেয়ালে যারা হিজড়া হয়ে জন্ম নিয়েছে, আমার মনে হয়, তাদেরকে অপমান করা হয়।
২৪ অক্টোবর, ১৯৪৬ সালে, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির হিন্দু মহাসভার নেতৃত্বে এক বিরাট জনতা দিল্লিতে গান্ধীর হরিজন কলোনীর প্রার্থনা সভায় উপস্থিত হয়। তারা গান্ধীকে নোয়াখালির হিন্দু মেয়েদের সম্ভ্রম রক্ষা ও সাম্প্রদায়িক সুরাবর্দীর মন্ত্রীসভাকে বাতিল করার ব্যবস্থা নিতে বলেন। কিন্তু গান্ধী পুনরায় তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে নোয়াখালির সমস্ত হিন্দুকে মুসলমানদের তরবারির নিকট আত্মসমর্পন করার পরামর্শ দেয়; কেননা, তার মতে, মুসলমান আক্রমনকারীদের বাধা দেওয়ার মানেই হলো অযথা রক্তপাত। সেই সময় গান্ধী আবারও উপস্থিত লোকজনকে স্মরণ করিয়ে দেয় তার সেই বিখ্যাত দুর্গন্ধময় আবর্জনা, "নিহত হও, কিন্তু কাউকে হত্যা করো না।" গান্ধীর এসব মল মূত্র ভারত বাসীর জন্য প্রকাশ করেছিলো অমৃত বাজার পত্রিকা ২৫.১০. ১৯৪৬ তারিখে। ১৯৪৬ সালে যখন নোয়াখালিতে হিন্দু হত্যা হচ্ছিলো তখন গান্ধী সেখানে তো সাথে সাথে যায় ই নি, গিয়েছিলো হিন্দু হত্যা ও ধর্ষণের সব ঘটনা যখন শেষ হয়ে গেছে, তখন হত্যা নির্যাতন শুরুর ২৬ দিন পর, কিন্তু নোয়াখালির প্রতিক্রিয়ায় বিহারে যখন দাঙ্গা শুরু হয়, সেই দাঙ্গা থামাতে গান্ধী সেখানে গিয়েছিলো সাথে সাথে এবং দাঙ্গা বন্ধ করার ব্যবস্থাও করেছিলো; কারণ, বিহারে তার জাত ভাই মুসলমনারা বেশি সংখ্যায় মরছিলো। গান্ধীর এই মুসলিম প্রীতির জন্য অনেকে গান্ধীর জীবদ্দশাতেই তাকে মোহাম্মদ গান্ধী বলতো।
এ পোস্টে এই পর্যন্তই, গান্ধীর কুকর্মের আরো ইতিহাস পাবেন পরের পর্বে।
জয় হিন্দ।
💜 জয় হোক সনাতনের 💜

শুক্রবার, ১ মার্চ, ২০১৯

Indian civilization: The Untold Story- A Talk by Raj Vedam

বাংলাভাষায় বিজ্ঞানচর্চা : পর্ব পাঁচ


    বাংলাভাষায় বিজ্ঞানচর্চা : পর্ব পাঁচ

   ফেসবুক থেকে       শেয়ার করেছেন         প্রণব কুমার কুণ্ডু


প্রণব কুমার কুণ্ডু









বাংলাভাষায় বিজ্ঞানচর্চা : পর্ব পাঁচ

বাংলাসাহিত্যে পদার্থবিজ্ঞানের বিষয়বিশেষ নিয়ে গ্রন্থ রচনায় সর্বাধিক কৃতিত্বের অধিকারী সম্ভবত জগদানন্দ রায়। ১৯২৪ থেকে ১৯২৯ পর্যন্ত তিনি শব্দ, তাপ, আলোক, চুম্বক, স্থির ও চলবিদ্যুত নিয়ে আলাদা আলাদা গ্রন্থ রচনা করেন।
বিশ শতকের প্রথমার্ধে বঙ্গসাহিত্যে আবির্ভুত হলেন দুইজন বিজ্ঞানী - জগদীশচন্দ্র বসু ও প্রফুল্লচন্দ্র রায়। জগদীশচন্দ্রের রচনায় বৈজ্ঞানিকের যে নিজস্ব অনুভুতি ও মৌলিকতার পরিচয় পাওয়া যায় তা অনন্য। ১৯২১ সালে রচিত জগদীশচন্দ্রের 'অব্যক্ত' বাংলা বিজ্ঞানসাহিত্যের একটি চিরস্থায়ী সম্পদ। এই গ্রন্থটি হল তাঁর কিছু প্রবন্ধ ও বক্তৃতার সংকলন। মুল আলোচ্য বিষয় অদৃশ্য আলোক, নির্বাক উদ্ভিদজীবন এবং উদ্ভিদস্নায়ুতে উত্তেজনাপ্রবাহ।
পক্ষান্তরে প্রফুল্লচন্দ্র মুলত প্রাচীন ও আধুনিক বিজ্ঞানের মধ্যে তুলনামুলক আলোচনা করেছেন। তাঁর সুবিখ্যাত গ্রন্থটি হল 'হিস্ট্রি অফ হিন্দু কেমিস্ট্রি' যার দুটি খন্ড ১৯০২ ও ১৯০৬ সালে প্রকাশিত হয়। ১৯৪৩ সালে গ্রন্থটি বাংলা ভাষায় অনুবাদিত হয়। 'হিন্দু রসায়নী বিদ্যা'র ভুমিকায় প্রফুল্লচন্দ্র লেখেন, "যেদিন হইতে সমাজের বুদ্ধিমান ও বিদ্বান লোকেরা শিল্পবিজ্ঞানের চর্চ্চা ত্যাগ করিয়া তাহার ভার অশিক্ষিত নিম্নশ্রেণীর লোকের উপর অর্পণ করিলেন সেইদিন হইতে আমাদের অধঃপতন আরম্ভ হইল। নাপিতের হস্তে অস্ত্রচিকিৎসা ও বেদের হস্তে উদ্ভিদবিজ্ঞানের আলোচনার ভার ন্যস্ত করিয়া আমরা নিশ্চিন্তে বসে পরলোকচিন্তায় ব্যস্ত হইলাম।" মন্তব্যটি বিতর্কিত হতে পারে তবে গুরুত্বহীন নয়।
প্রফুল্লচন্দ্রের গ্রন্থটির একটি দুর্বলতা হল, অতিরিক্ত স্বদেশপ্রীতি ও স্বজাত্যবোধের উপর নির্ভরতার ফলে বৈজ্ঞানিকের নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গিতে আঘাত পেয়েছে।
পরবর্তী বিজ্ঞান লেখক হিসাবে যাঁর কথা মনে আসে তিনি আর কেউ নন, আমাদের রবীন্দ্রনাথ। 'বালক' ও 'সাধনা' পত্রিকা দুটিতে কেন্দ্র করে রবীন্দ্রনাথ বিজ্ঞানালোচনায় প্রথম উদ্যোগী হন। সারাজীবনে তিনি ছোটবড় একাধিক বিজ্ঞানপ্রবন্ধ লিখেছেন। তবে বঙ্গসাহিত্যে রবীন্দ্রনাথের সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য অবদান 'বিশ্বপরিচয়', যা প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৩৭ সালে। এতে তিনি পরমাণুলোক, নক্ষত্রলোক, সৌরজগত, গ্রহলোক ও ভূলোক - এই পাঁচটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। গ্রন্থটির ভূমিকায় রবীন্দ্রনাথ লেখেন, "শিক্ষা যারা আরম্ভ করেছে, গোড়া থেকেই বিজ্ঞানের ভাণ্ডারে না হোক, বিজ্ঞানের আঙিনায় তাদের প্রবেশ করা অত্যাবশ্যক।" বিজ্ঞান সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথের চিন্তাধারার প্রকৃত প্রকাশ এই মন্তব্যটিতে।
পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক চারুচন্দ্র ভট্টাচার্য্য বিশ শতকের গোড়ার একজন জনপ্রিয় বিজ্ঞানলেখক। ১৯১৮ সালে প্রকাশিত 'নব্যবিজ্ঞান' তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ। 'পদার্থবিদ্যার নবযুগ' এবং 'বৈজ্ঞানিক আবিস্কারের কাহিনী' তাঁর আরও দুটি উল্লেখযোগ্য বই।
আর একজন প্রসিদ্ধ বিজ্ঞানলেখকের কথা বলে এই পর্ব শেষ করবো। তিনি হলেন রাজশেখর বসু, যাঁকে আমরা পরশুরাম ছদ্মনামেই বেশি চিনি। ১৯০৩ সালে আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের প্রতিষ্ঠিত বেঙ্গল কেমিক্যালে রসায়নবিদ হিসাবে চাকুরিজীবন শুরু করে স্বীয় দক্ষতায় অল্পদিনেই তিনি ঐ কোম্পানীর পরিচালক পদে উন্নীত হন। কেমিস্ট্রি ও ফিজিওলজির মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করে তিনি এক নতুন পদ্ধতির উদ্ভাবন করেন। রাজশেখর বসুর তত্ত্বাবধানে বেঙ্গল কেমিক্যাল সমৃদ্ধশালী গবেষণা ও উদ্ভাবন কেন্দ্রে পরিণত হয়। 'ভারতের খনিজ' তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। তবে পরশুরাম ছদ্মনামে কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসকে আঘাত করে তাঁর ব্যঙ্গকৌতুক ও বিদ্রুপাত্মক গল্পগুলির জন্যেই তিনি সুপ্রসিদ্ধ।
(চলবে)
(তথ্যসূত্র : বঙ্গসাহিত্যে বিজ্ঞান - ডঃ বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য্য, অন্য কোনো সাধনার ফল - আশীষ লাহিড়ী, বিদ্যাসাগর ও বাঙালী সমাজ - বিনয় ঘোষ)

ধ্যান অনুধ্যান এবং জীবনের অনুষ্ঠান


ধ্যান অনুধ্যান এবং জীবনের অনুষ্ঠান





প্রণব কুমার কণ্ডু




দুই ভুরুর মাঝখানে
মনটাকে
ধরে রাখতে হবে !
ওখানে যে 'আমি' সত্তাটি আছে
সেই আমি সত্তা
বোধ করতে হবে !
'চেষ্টা' করতে হবে !
চেষ্টা করেই যেতে হবে !

প্রথম প্রথম
সেটা করা যাবে না !
চেষ্টা
চালিয়ে যেতে হবে !
আবার সেই আমি সত্তায়
মনটা রাখতে হবে !
এটা নিত্য কর্মের
প্রথম ধাপ !

দুই ভুরুর মাঝখানে
আমি সত্তার অধিষ্ঠান !
ওই আমি সত্তার সাথে
যখন মনের অনুভব
মিলে মিশে
এক হয়ে যাবে
তখন হবে
আসল কাজ আরম্ভ হবে !

তারপর কোন মূর্তি
ভেসে আসবে !
আমি সত্তার সেই 'আমি'
সেই মূর্তিতেই থাকবে !
সেটা হবে
আত্মার অনুভূতি !
সেই অনুভূতি
চালিয়ে যেতে হবে !

वीर सावरकर की पीठ पर कांग्रेस ने छुरा घोंपा ।